৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শুধু তালা ঝোলানোর কাজ করেছে আর পার্টির ক্যাডারদের চাকরি, অপরদিকে ১৫ বছরের তৃণমূল আমল দিয়েছে সাদা খাতায় চাকরি। আজ বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে এই ভাষাতেই রাজ্যের দুই পূর্বতন শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের প্রথম বিজেপি বাজেট পেশের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা এতদিন ধরে বাংলার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে, আজ তারাই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এসে বড় বড় জ্ঞান দিচ্ছে এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি রাজ্যের সরকারি অর্থ অপচয়ের তীব্র নিন্দা করে মনে করিয়ে দেন, কীভাবে বিগত দিনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুরুষদের নামেও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘বিধবা ভাতা’র টাকা দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারগুলির এই চরম অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর সরকার বাংলার হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠন, মঠ মন্দির সংরক্ষণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাকো ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন শক্তিপীঠ-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের সরকার বাংলার সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার হেরিটেজ কমিশনকে পুনরুজ্জিবীত করা, মঠ মন্দির সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংস্কৃতিকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমরা সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাব। রাজ্য শুরু সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, আধ্যাত্মিক রাজনীতি।”
শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, আগের সরকারগুলির মতো চিরকুটে বা সাদা খাতায় নয়, বরং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে পুলিশে ২০ হাজার এবং শিক্ষা দফতরে ৫০ হাজারসহ মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বর্তমান সরকার। যুবসমাজের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বেকার ভাতা এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন।

