রাজ্যে শুরু হওয়া জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতির মধ্যে রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দফতর। দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনওভাবেই বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত করা যাবে না। প্রয়োজনে শিক্ষকরা স্কুল ছুটির পরে অথবা সপ্তাহান্তে (উইকএন্ডে) জনগণনার কাজ করবেন।
৩ আগস্ট জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ষদ, কলকাতা ও শিলিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিল এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের জানানো হয়েছে, জনগণনার কাজ এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে যাতে স্কুলের একাডেমিক কার্যক্রমে কোনও প্রভাব না পড়ে। অর্থাৎ, ক্লাস চলাকালীন সময়ে পাঠদান বন্ধ রেখে জনগণনার কাজে অংশ নেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর কাছে ‘মর্নিং স্কুল’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, সকালে ক্লাস হলে দিনের বাকি সময় জনগণনার কাজ করা সহজ হবে। শিক্ষামন্ত্রী সেই প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত মর্নিং স্কুল চালুর কোনও ঘোষণা হয়নি। তার পরিবর্তে শিক্ষা দফতর এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।
এদিকে শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সংগঠনের একাংশের দাবি, জনগণনার কাজ সরকারি দায়িত্ব হওয়ায় সেটিকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য করা উচিত। তাঁদের মতে, সারাদিন ক্লাস নেওয়ার পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে নিয়মিত পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে শিক্ষা দফতরের এই পদক্ষেপকে সমর্থনও জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন।
প্রসঙ্গত, এবারের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিজেরাই অনলাইনে পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও, শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করেছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি না করেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।


