২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
চিত্রঃ সংগৃহীত
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে নব গঠিত বিজেপির রাজ্য সরকার।  এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।  কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে।  সরকারের দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতেই এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, পূর্ত, ভূমি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসবে।  পাশাপাশি জিটিএ এলাকায় প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।  বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ, তোলাবাজি, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগগুলিও কমিশন তদন্ত করবে।

আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বণ্টন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY), ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA), মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  কোথাও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করবে কমিশন।

তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে তদন্তের পরিধি বিস্তৃত রাখা হয়েছে।  প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি মেডিকেল কলেজে নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।  চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নিয়ম ভঙ্গ বা স্বজনপোষণের অভিযোগ থাকলেও তা তদন্তের আওতায় আসবে।

এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি ঘর বাড়ি নির্মাণে প্রশাসনিক মদত, মিথ্যা মামলা দায়ের, অন্যায্য গ্রেপ্তার এবং সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগও কমিশন তদন্ত করবে।  সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি দুর্নীতিতে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সংস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।

কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় একজন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিক তদন্ত শাখার নেতৃত্ব দেবেন।  প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবেন একজন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার আধিকারিক, আর কারিগরি সহায়তা দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবার (WBRS) একজন আধিকারিক।  প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে আরও বিশেষজ্ঞকে কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।

কমিশন অফ ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫২ অনুযায়ী এই কমিশন দেওয়ানি আদালতের সমান ক্ষমতা পাবে।  তদন্তের স্বার্থে যে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিককে তলব করা, শপথ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, হলফনামা গ্রহণ করা এবং সরকারি নথি তলব করার ক্ষমতা থাকবে কমিশনের।  সাধারণ মানুষও সরাসরি কমিশনের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।

তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ, সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপের সুপারিশও করতে পারবে কমিশন। তবে বর্তমানে সিবিআই, ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে মামলাগুলির তদন্ত করছে, সেগুলি এই কমিশনের আওতায় থাকবে না।  তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে কমিশন।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।