মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন স্কুলপড়ুয়া এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন বলে পূর্ব রেল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছে আরও কয়েকজন পড়ুয়া ও পুলকারের চালক। আহতদের কর্ণসুবর্ণ গ্রামীণ হাসপাতাল এবং মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে একটি পুলকার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সেই সময় ডাউন নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি পুলকারটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিক তার আগে আপ লাইনে একটি ট্রেন যাওয়ার পরও লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল। গেট খোলা থাকায় পুলকারটি রেললাইন পার হতে শুরু করে এবং সেই সময়ই বিপরীত দিক থেকে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল এসে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ গেটম্যানের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও গেটম্যান নেশাগ্রস্ত ছিলেন—এমন দাবিও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে করা হলেও, এই অভিযোগ এখনও রেলের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পূর্ব রেল দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি হাওড়া বিভাগের অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (এডিআরএম)এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল টিমও মোতায়েন করা হয়েছে।
রেলের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হয় এবং তদন্তের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনার জেরে আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান।

