রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার আদালত স্পষ্ট করে দেন, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লেই তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব হারিয়েছেন এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আদালত জানায়, কারো নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী আগস্ট মাসে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এদিন মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কেবল ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধন করা। কিন্তু কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের হাতে নেই । যদি কোনও ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।
মামলাকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতে জানান, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের জন্য গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালগুলিতে মামলার নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত ধীর। এখনও পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ আবেদনকারীর পক্ষেই রায় এসেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহু আবেদন এখনও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের গণবণ্টন ব্যবস্থা (পিডিএস), অন্নপূর্ণা যোজনাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি তাঁদের জাতিগত শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে না বলেও আদালতের নজরে আনা হয়।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বিহারের এসআইআর মামলার রায়েই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের কোনও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের প্রশ্ন উঠলে সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাতে হবে। যতক্ষণ না সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কাউকে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বলে ধরা যাবে না।
শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটিকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলার সঙ্গে যুক্ত করে আগস্ট মাসে ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

