টানা ২৬ দিনের অনশনের ইতি টানলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্স বডির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি জল পান করে অনশন ভাঙেন। অনশন প্রত্যাহারের পর দেওয়া ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, “এটি শুধু অনশনের সমাপ্তি নয়, জবাবদিহির সূচনা।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রথমে তাঁকে সাফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে আদালতের অনুমতিতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই প্রায় দু’দিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি অনশন ভাঙ্গেন।
ওয়াংচুক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না করার আশ্বাসও তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই প্রতিশ্রুতিগুলির উপর আস্থা রেখেই তিনি অনশন শেষ করেছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জনেরও বেশি সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে বা চিঠির মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দেশের পরিস্থিতি এবং আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার স্বার্থে সরকারকে সুযোগ দেওয়াই এখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সোনম যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলনের সব পক্ষ যে একই অবস্থানে রয়েছে, তা নয়। সরকারের আশ্বাসে আস্থা রেখে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেও, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের মূল দাবি থেকে এখনও একচুলও সরেনি। ওয়াংচুকের অনশন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দলের প্রতিষ্ঠাতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট করেন—“Dharmendra Pradhan Must Resign!” “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।” এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক আপাতত আন্দোলনের এই অধ্যায়ের ইতি টানলেও, সিজেপি এখনও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই অনড়।

