রাজ্যে প্রথমবার গুন্ডাদমন আইনের কোপে ধর্মতলার আন্দোলনকারীরা, তিন পুরুষ মনে রাখবে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

ধর্মতলায় ককরোচ পার্টির ডাকা আন্দোলনে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও অশান্তির ঘটনায় রাজ্যে প্রথমবারের মতো গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  শনিবার বিধানসভায় তিনি জানান, এই ঘটনায় মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।  এর মধ্যে ছয়টি হেয়ার স্ট্রিট থানায় এবং একটি এন্টালি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। সবকটি মামলাতেই গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তে এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।  তাঁর দাবি, এঁদের অধিকাংশই ছাত্র নন এবং নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়াতেই তাঁরা ধর্মতলায় এসেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।  তাঁর আরও দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে উসকানি দিয়ে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করাতে চেয়েছিল।  কিন্তু পুলিশ সংযম দেখিয়েছে এবং সেই ফাঁদে পা দেয়নি।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কয়েকজন অভিযুক্তের নামও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভির, একবালপুরের নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।  তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, “যা তিন পুরুষ মনে রাখবে।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, শুক্রবার রাতে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন।  বিধানসভায় তিনি গুরুতর আহত সাংবাদিকদের নামও উল্লেখ করেন।  তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিলাদিত্য কর, দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মানস পাত্র, সুমন মহাপাত্র, ঋক পুরকায়স্থ এবং কৃষ্ণেন্দু মজুমদার এই হামলায় গুরুতর জখম হন। তাঁদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে।  তাই পুলিশকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ না করতে।  কিন্তু ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছনোর পর জলের বোতল ও জুতো ছোড়া শুরু হয় এবং পরে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।  তাঁর মন্তব্য, “ডিম ছোড়া যদি বাংলার সংস্কৃতি না হয়, তাহলে সাংবাদিকদের দিকে জুতো বা জলের বোতল ছোড়াও বাংলার সংস্কৃতি হতে পারে না।”

তবে উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও অভিযোগ সরকারি দাবি। ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।