আজ থেকে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব নিলেন ইসকন। এই দায়িত্ব ইসকনের অন্নামিত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া হলেও রাঁধুনিদের চাকরি থাকবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কোনও রাঁধুনিকে কাজ থেকে সরানো হবে না। বরং খাবার রান্না ও সরবরাহের কাজে তাঁদের যুক্ত করা হবে।
শনিবার কলকাতায় মিড-ডে মিলের মেগা কিচেন প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ায় যারা বলছিলেন মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের কাজ চলে যাবে, তাঁদের আশ্বস্ত করছি—কোনও রাঁধুনি বঞ্চিত হবেন না।”
পাশাপাশি রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাও করেন তিনি। এতদিন ২ হাজার টাকা পাওয়া রাঁধুনিদের ভাতা আগস্ট মাস থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, কলকাতার ৩১৯টি সরকারি স্কুলে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন অন্নামিত্র ফাউন্ডেশনকে। কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে রান্না করা খাবার বিশেষ গাড়ির মাধ্যমে স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়ার কাছে এই খাবার পৌঁছবে।
তবে মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা আগের মতোই চালু থাকবে বলে স্পষ্ট করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাঁধুনিরাই সপ্তাহে একদিন করে ডিম দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের ব্যবস্থা করেছে ইসকন। খাবার স্কুলে পৌঁছানোর পরই সিল খোলা হবে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাতে ইলেকট্রিক গাড়ির মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মিড-ডে মিলের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ১০ টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

