জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য শিক্ষা দফতর। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের শনাক্ত করে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। একই সঙ্গে স্কুলের পরিচালন সমিতি দ্রুত গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিক, স্কুল পরিদর্শক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। সাম্প্রতিক অশান্তির কারণ এবং স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকের পর দীপক বর্মন জানান, শিক্ষককে মারধরের ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনায় জড়িত ছাত্রদের দ্রুত চিহ্নিত করে টিসি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই ছাত্রদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে না। অন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে এবং মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও বসতে কোনও বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে কোনও ষড়যন্ত্র বা বহিরাগতদের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন ঘটনার দুই পক্ষের অভিযোগই খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
কবে এবং কী ঘটেছিল জেলা স্কুলে?
গত ৮ সেপ্টেম্বর জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে খাওয়াদাওয়ার আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমস্যার সূত্রপাত হয়। দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র অভিযোগ করে, খাবারের ব্যবস্থায় তাদের ঠিকমতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে শিক্ষকেদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ছাত্রদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের বচসা বাধে।
অভিযোগ ওঠে, বচসার সময় প্রধান শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রকে মারধর করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষককেও ছাত্ররা মারধর করেছে বলে অভিযোগ। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আহত হন। তাঁর ঘরের দরজা ও কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে পুলিশ পৌঁছয়। আহত প্রধান শিক্ষক এবং কয়েকজন ছাত্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষককে পুলিশি নিরাপত্তায় স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগও ওঠে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে।
সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার সোরগোল হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য শিক্ষা দফতর নড়েচড়ে বসে। শুক্রবার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পৌঁছন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। প্রথমে জেলাশাসক, স্কুল পরিদর্শক-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এর পাশাপাশি জলপাইগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ২০টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন দীপক বর্মন। স্কুলের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষক-পড়ুয়া সম্পর্ক নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে আর তৈরি না হয়, সে জন্য প্রধান শিক্ষকদের পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের পরিচালন ব্যবস্থার দিকেও নজর দিয়েছে শিক্ষা দফতর। স্কুলের পরিচালন সমিতি দ্রুত গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় বহিরাগত কেউ জড়িত ছিল কি না, থাকলে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
