পেট্রোলে ইথানল মেশানোর নীতি (E20) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন ইথানল ব্লেন্ডিং না থাকলে দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ১২৫ টাকা হতো। তবে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর নীতির কারণেই জ্বালানির দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান কেন্দ্র। অর্থাৎ, গ্রাহকেরা লিটারপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করেছেন বলে সরকারের দাবি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকারের বক্তব্য, ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার নয়, বরং অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশকে সুরক্ষা দেওয়া।
সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৩৫ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে পেট্রোলে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানল ২০ শতাংশ মেশানো না হলে গ্রাহকদের আরও বেশি দাম গুনতে হতো। সরকারের হিসাবে, ইথানল ব্যবহারের ফলে সেই সময় দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ছিল ৯৪.৭৭ টাকা প্রতি লিটার, যা সম্ভাব্য দামের তুলনায় প্রায় ৩০ টাকা কম।
সম্প্রতি E20 পেট্রোল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই দাবি করছেন, এতে গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং খাদ্যশস্য ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। এই সব প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মজুত আলাদা রাখার পর উদ্বৃত্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত শস্য থেকেই ইথানল তৈরি করা হয়। তাই সাধারণ মানুষের খাদ্য সরবরাহে এর প্রভাব পড়ে না বলে সরকারের দাবি।
সরকার আরও জানিয়েছে, ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির ফলে এখন পর্যন্ত ৩১৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে। এতে ১.৯৭ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক ও ডিস্টিলারিদের ১.৬৬ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও মাইলেজের প্রসঙ্গে সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, E20 পেট্রোল ব্যবহারে কিছু গাড়িতে ২ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে।
এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে,ইথানল ব্লেন্ডিং কী?
ইথানল হলো এমন একটি জৈব জ্বালানি, যা মূলত আখ, ভুট্টা, ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যশস্য ও অন্যান্য কৃষিজ উপাদান থেকে তৈরি হয়। বর্তমানে ভারতে ধাপে ধাপে E20 (২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) ব্যবহার করা হচ্ছে।

