রাজ্যে আবাস প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একদিকে তিনি জানিয়েছেন, আজ থেকেই প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানো শুরু হবে। অন্যদিকে, আবাস প্রকল্পে অনিয়ম ও ভুয়ো উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের কাজ এগিয়েছেন এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানো হবে। সরকার চাইছে প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে দ্রুত প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে।
এদিকে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আবাস প্রকল্পের নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার পরিবর্তে প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। নতুন সরকার সেই নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করেছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাকে রাজ্য সরকার নিজেদের প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরতে নাম পরিবর্তন করেছিল।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কড়া বার্তা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাঁরা বেআইনিভাবে আবাস যোজনার টাকা নিয়েছেন, তাঁদের সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে।” কোনও ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান
মন্ত্রী দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এঁদের মধ্যে বহু নাম অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার জন আবাস প্রকল্পের সুবিধাও পেয়েছেন। তাঁদের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হবে। যদি দেখা যায় তাঁরা প্রকল্পের যোগ্য ছিলেন না বা বেআইনিভাবে সুবিধা নিয়েছেন, তাহলে তাঁদের ভবিষ্যতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ইতিমধ্যে পাওয়া সরকারি অর্থও ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, আবাস প্রকল্পে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি আবেদন ও অর্থপ্রদানের প্রক্রিয়া কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত উপভোক্তারাই যাতে সরকারি সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

