অন্নপূর্ণা যোজনায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল! কেন বাদ পড়ল নাম, টাকা না পেলে কি করবেন, ফের আবেদন কোথায়-কীভাবে? জানুন বিস্তারিত

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। সোমবার ১৭ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে যাবে।  এই দফায় মোট ৪৩৫০ কোটি টাকা খরচ করছে রাজ্য।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিসংখ্যান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের সচিব মৌমিতা গোদারা বসু।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানা গেছে, এই প্রকল্পের ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে।  নথি যাচাইয়ের পর প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন আপাতত বাতিল বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।  এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে আধার সংক্রান্ত সমস্যার কারণে।

সরকারের দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ আবেদনকারীর আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছে।  এছাড়াও সরকারি চাকরি, আয়কর প্রদান-সহ প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করার কারণেও কিছু আবেদন বাতিল হয়েছে।

তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই ১৭ লক্ষ আবেদনকারীকে চূড়ান্ত ভাবে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।  ভুল বা নথিগত সমস্যা থাকলে তাঁরা ফের দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে, সোমবার থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানো হবে।  এই দফায় মোট ৪৩৫০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে।
তবে সকলের অ্যাকাউন্টে একই দিনে টাকা ঢুকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে টাকা ঢুকে যাবে।

১০ জুলাই পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল।  এর মধ্যে প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে।  যাচাইয়ের পর ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তাকে এই দফায় টাকা দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই এখনও চলছে।  সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই যাচাই প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে।  যাচাই শেষে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন।

টাকা না ঢুকলে কী করবেন?

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও উপভোক্তা মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢুকলে প্রথমেই তাঁর আবেদনের স্ট্যাটাস এবং টাকা না পাওয়ার কারণ দেখতে হবে।  নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের সচিব মৌমিতা গোদারা বসু জানিয়েছেন, যাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে কেন টাকা দেওয়া হচ্ছে না, সেই কারণও উল্লেখ করা হবে। যেমন, যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীকে পাওয়া না গেলে ‘নট ফাউন্ড’ ইত্যাদি কারণ দেখানো হতে পারে।
এরপর সেই কারণের ভিত্তিতে আবেদনকারী ক্লেম বা অবজেকশন জানাতে পারবেন।

কোথায় ক্লেম করবেন?

সরকারের নির্দিষ্ট সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালের মাধ্যমে ক্লেম ও অবজেকশন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদন ফের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করবে।  যদি পুনরায় যাচাইয়ের পর দেখা যায় যে আবেদনকারী অন্নপূর্ণা যোজনার সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করছেন, তাহলে তাঁকে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে।

সরকারের বক্তব্য, কাউকে একেবারে ‘Rejected’ করে চিরতরে বাদ দেওয়া হচ্ছে না।  ভুল বা নথিগত সমস্যা থাকলে ফের যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে।

কবে থেকে আবার আবেদন বা অভিযোগ জানানো যাবে?

জানানো হয়েছে, ২০ আগস্ট থেকে আবার আবেদন ও ক্লেম/অবজেকশনের সুযোগ চালু করা হবে।  নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুকরাও পোর্টাল চালু হলে আবেদন করতে পারবেন।  অর্থাৎ যাঁদের নাম প্রথম তালিকায় নেই, তাঁদের এখনই হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিজের আবেদনের কারণ জেনে প্রয়োজনীয় নথি ঠিক করে পুনরায় দাবি জানানো যাবে।

আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ না থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক আবেদন আটকে যাওয়ায় সমস্যা সমাধানে বিডিওদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বিডিওরা স্থানীয় ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় শিবিরও আয়োজন করা হবে, যাতে উপভোক্তারা সহজেই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগের সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।