‘নেতাজিকে কে নেতা বানাল? কিসের নেতা?’ নেতাজিকে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল, দেশদ্রোহী’ বললেন বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ।  জলপাইগুড়ির ফুলবাড়িতে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।  প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলেও মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

রবিবার ফুলবাড়ির জাবরাভিটায় হাই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ)-এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন অনন্ত মহারাজ।  সেখানেই নেতাজিকে নিয়ে প্রশ্ন ছোড়েন তিনি।  তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে শোনা যায়, “নেতাজিকে কে নেতা বানাল? কিসের নেতা?” এরপরই সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

অনন্ত মহারাজের দাবি, ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে নেতাজির কোনও সম্পর্ক নেই।  তাঁর বক্তব্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য নেতাজি লড়াই করেননি, বরং দেশের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরেছিলেন।  নেতাজি কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁর আসল উদ্দেশ্য কী ছিল- সেই প্রশ্নও তোলেন বিজেপি সাংসদ।

সভায় নিজের বক্তব্যে ভারতের স্বাধীনতা নিয়েও ভিন্ন দাবি করেন অনন্ত মহারাজ।  তাঁর কথায়, কোচবিহারের মানুষের ভূমিকা ছিল স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।  কোচবিহারের মহারাজা জগদীপেন্দ্রনারায়ণের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।  পাশাপাশি জাপান ও জার্মানির প্রসঙ্গ টেনে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

নেতাজিকে ঘিরে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য অবশ্য এই প্রথম বিতর্ক তৈরি করল না।  এর আগেও তাঁর বক্তব্য নিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনা হয়েছিল।  বিশেষ করে নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজবংশী সম্প্রদায়ের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন।

সেই প্রতিবাদে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডা. জয়ন্ত রায়, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য নিখিলচন্দ্র রায় এবং আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী মহেন্দ্রনাথ রায় সহ আরও অনেকে।

নেতাজিকে নিয়ে ফের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।  দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে ঐতিহাসিক আলোচনা রয়েছে, অনন্ত মহারাজের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের সামনে এনে দিল।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।