রাজ্যের কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা। বর্ধমানের সভা থেকে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, ধান কেনা এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর যোগ্য কৃষকদের একাউন্টে টাকা দেওয়া হবে।
সভা থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা বছরে ৬ হাজার টাকা করে পান। এর সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে আরও ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন বলে সভা থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান প্রকল্পের সরকারি পোর্টালেও বর্তমানে বছরে ৬ হাজার টাকা সহায়তার তথ্য রয়েছে।
কৃষক বন্ধু নিয়ে কৃষকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে যাবে। এরপর যাঁরা যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাঁদের টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে, “যারা জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে আবেদন করেছে তাদেরও যুক্ত করেছি।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে আরও ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মোট ৯ হাজার টাকার সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।
তবে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, জমির পরিমাণের ভিত্তিতে বর্তমানে বছরে ৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। এই টাকা সাধারণত খরিফ ও রবি মরশুমে দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়।
কৃষক বন্ধুতে কারা কত টাকা পাবেন?
সভায় দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ভেরিফিকেশনে যোগ্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্যের তরফে আরও ৩ হাজার টাকা যোগ করে মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও, ১ শতক কৃষিজমি রয়েছে এমন কৃষকদের বছরে এককালীন ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ শতকের বেশি জমি রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির সুবিধা পান, এমন কৃষকদের রাজ্য সরকারের তরফে বছরে এককালীন ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কবে টাকা ঢুকবে?
এখনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখে টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানানো হয়নি। তবে সভায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ করার পর যোগ্য কৃষকরা টাকা পাবেন। অর্থাৎ আগে যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হবে, তার পরেই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
এছাড়াও বর্ধমানের সভা থেকে কৃষকদের জন্য আরও বেশ কিছু ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জেলার চার লক্ষের বেশি কৃষক ইউনিট প্রতি ২ টাকা করে বিদ্যুৎ ভর্তুকি পাবেন। এর ফলে বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলে ছাড় পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে সভা থেকে জানানো হয়েছে।
এদিন বর্ধমানে তিনটি সাব-স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি মেমারিতে ১১.৮৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ বা সংযোগের কাজের কথাও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি কৃষকদের ধান বিক্রি নিয়েও বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। সভা থেকে বলা হয়েছে, কৃষকরা যতটা ধান বিক্রি করতে চান, সরকার তা কিনে নেবে। অর্থাৎ কৃষকদের ধান বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়ের ব্যবস্থা নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি ২৭০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলে সভা থেকে জানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি খাদ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী ধান সংগ্রহ ও কৃষকদের পেমেন্টের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সরকারি পোর্টালে বর্তমানে সাধারণ ধানের এমএসপি ২,৩৬৯ টাকা দেখানো হচ্ছে, তাই ২,৭০০ টাকার বিষয়টি নতুন ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
