কলকাতার পর পুরুলিয়াতেও মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে, রাঁধুনিদের কাজ বহাল রাখার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

কলকাতার পর এ বার পুরুলিয়া জেলার সরকারি স্কুলগুলিতেও মিড ডে মিল বা স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ পরিষেবার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।  সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  তবে নতুন ব্যবস্থায় স্কুলগুলিতে বর্তমানে কর্মরত মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কর্মসংস্থান নিয়ে যাতে কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ইসকন দায়িত্ব নিলেও কোনও রাঁধুনিকে কাজ হারাতে হবে না এবং তাঁদের কাজ বহাল থাকবে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মানবাজারে একটি জলপ্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।  এরই মধ্যে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।  মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য পাখা, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে অ্যাকোয়াগার্ড এবং স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।  পাশাপাশি স্কুলের খাবারের গুণমান ও পুষ্টির মান আরও উন্নত করার জন্য মিড ডে মিল খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলের মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।  এর লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের আরও পুষ্টিকর ও গুণমানসম্পন্ন খাবার দেওয়া। নতুন ব্যবস্থায় ইসকনের মাধ্যমে মূল খাবার সরবরাহ করা হলেও পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু থাকবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্তমানে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার পড়ুয়ার জন্য মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে ইসকন।  কলকাতায় এই ব্যবস্থা চালুর পর ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সরকারি স্কুলগুলিতেও একই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।  সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে পুরুলিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।  অর্থাৎ কলকাতার পর এবার পুরুলিয়া জেলার সরকারি স্কুলগুলিতেও ইসকনের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।

ইসকনের দেওয়া খাবার সম্পূর্ণ নিরামিষ হওয়ায় এর সঙ্গে পড়ুয়াদের ডিমের ব্যবস্থা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে।  বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় পড়ুয়ারা ডিম থেকে বঞ্চিত হবেন কি না।  সেই বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, ইসকনের নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন আলাদা করে ডিম দেওয়া হবে।  ফলে নতুন ব্যবস্থায় খাবারের পুষ্টিমান বজায় রাখার পাশাপাশি পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকায় ডিমও থাকছে।

অন্যদিকে, ইসকনের হাতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব যাওয়ার ঘোষণার পর থেকেই স্কুলগুলিতে কর্মরত রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।  দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। মানবাজারের সভা থেকে সেই আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার কারণে কোনও রাঁধুনি কাজ হারাবেন না।  তাঁদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং নিয়মিত কাজের সুযোগও অব্যাহত থাকবে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।