‘দিমাগি নকশাল’ কারা? মোদীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ৩ শ্রেণির তালিকা দিলেন কিরেন রিজিজু

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধকে ঘিরে স্বাধীনতা দিবসের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।  ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে থাকা মাওবাদীদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হলেও সমাজের মধ্যে এখনও কিছু ‘দিমাগি নকশাল’ সক্রিয় রয়েছে।  তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার কথাও বলেন তিনি।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তোলে, ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাঁদের অভিযোগ, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচকদের নিশানা করতেই নতুন এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম তো পাল্টা কটাক্ষ করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ হতে পেরে গর্বিত বলে মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মূলত মাওবাদী হিংসা এবং তার প্রভাব নিয়ে কথা বলছিলেন।  তাঁর দাবি, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে থাকা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্য এসেছে। কিন্তু মাওবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে।

মোদির বক্তব্য ছিল, এই ধরনের মানুষ নানা কৌশলে সমাজে অশান্তি ও বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং সুযোগ পেলে হিংসা ও অরাজকতার পথ বেছে নিতে পারে।  তাই তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে ভাষণে তিনি নির্দিষ্ট করে কারা ‘দিমাগি নকশাল’, তার কোনও তালিকা দেননি।  ফলে তাঁর মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা জল্পনা ও বিতর্ক।

এই বিতর্কের মধ্যেই রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।  তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলেননি।  বরং নির্দিষ্ট কিছু মাওবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সংবিধানবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।

রিজিজুর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিন ধরনের মানুষকে এই তকমার আওতায় রাখা হচ্ছে—

  1. যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে এবং একইসঙ্গে ভারতীয় সংবিধানকে মানে না।
  2. যারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেয়।
  3. যারা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদা করার কথা বলে।

রিজিজুর বক্তব্য, শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতি করা বা সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলা হচ্ছে না।  তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যে শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন, তাঁরা মূলত মাওবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানকে সমর্থন করেন।

রিজিজুর ব্যাখ্যার আগে থেকেই অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছিল।  প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করার পর কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা মন্তব্য করেন।  তিনি লেখেন যে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ হতে পেরে গর্বিত।  তাঁর এই মন্তব্যকে মোদীর বক্তব্যের সরাসরি রাজনৈতিক জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিরোধী শিবিরের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের নীতির সমালোচনা বা প্রশ্ন তোলা নাগরিকদের বিভিন্ন তকমা দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়।  তাঁদের বক্তব্য, ‘আরবান নকশাল’ থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক শব্দবন্ধের পর এবার ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি সামনে আনা হয়েছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।