নবী মুম্বইয়ের খারঘরে একটি জেরক্সের দোকান থেকে উদ্ধার হল ৩৪০৪টি পূরণ করা এসআইআর এর অনুমারেশন ফর্ম (SIR Enumeration Form)। অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের পূরণ করা ওই অরিজিনাল ফর্মগুলি জেরক্স করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি। ঘটনায় FIR দায়েরের পাশাপাশি পাঁচ জন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) সাসপেন্ড করেছে মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী অধিকারীক।
তবে কী ভাবে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য-সহ এতগুলি সরকারি নথি রাজনৈতিক কর্মীর হাতে পৌঁছল, তা নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।
মহারাষ্ট্রের নবী মুম্বইয়ের খারঘর এলাকায় SIR বা এসআইআর এর ফর্ম ঘিরে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসে বিষয়টি। খারঘরের সেক্টর ১৯ এর একটি বেসরকারি জেরক্স সেন্টারে বিপুল সংখ্যক SIR এর পূরণ করা ফর্ম জেরক্স করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন নির্বাচন দফতরের আধিকারিকরা। পরে ওই ফর্মগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলি কোনও সাধারণ ফটোকপি নয়, বরং ভোটারদের জমা দেওয়া অরিজিনাল অনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form)।
জানা গিয়েছে, ওই উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলি ১৮৮ পানভেল বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের। মোট ৩ হাজার ৪০৪টি ফর্ম পাওয়া যায়। এই ফর্মগুলির মধ্যে ১১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের নথি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করে রায়গড় জেলা প্রশাসন। জেলা কালেক্টর কিষাণ জাওয়ালে জানান, উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলি সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের হেফাজতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফর্ম কী ভাবে একটি বেসরকারি জেরক্স সেন্টারে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ জন BLO কে সাসপেন্ড করা হয়েছে । পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্তের জন্য আলাদা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পানভেল পুরসভার ডেপুটি কমিশনার নানাসাহেব কামাটে এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী ইলেকট্রল রেজিস্ট্রার কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্য দিকে, পানভেল পুরসভার মেয়র তথা বিজেপি নেতা নিতিন পাটিল দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দলের যোগ থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে তারা মানতে নারাজ।
উল্লেখ্য যে, আগামীকাল ৩১ আগস্ট মহারাষ্ট্রের এসআইআর এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে ।এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল গত ৩০ জুন ২০২৬ থেকে। শুধু তাই নয়, সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ এুমারেশন ফর্মের প্রায় ৭৩ শতাংশ ইতিমধ্যেই ডিজিটালাইজেশনের কাজ শেষ হয়ে গেছে।

