উৎসবের মরশুম শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তার আগেই বাজারে চিনির দামে বড়সড় লাফ। কলকাতা-সহ বিভিন্ন বাজারে পাইকারি দরে কেজি প্রতি চিনির দাম ৬৫-৬৬ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। কয়েক মাস আগেও যে চিনি ৪৫-৪৬ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছিল, এখন সেই দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ফলে উৎসবের আগে চিনির দাম আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, গত সপ্তাহেও পাইকারি বাজারে চিনির দাম ছিল কেজি প্রতি প্রায় ৫২-৫৩ টাকা। তার পরেই আচমকা দাম বেড়ে ৬৪-৬৬ টাকায় পৌঁছেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারেও। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে।
চিনির দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মিষ্টির দোকান, বেকারি এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, আগের তুলনায় এখন বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে চিনি কিনছেন। দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চললে মিষ্টি ও চিনি ব্যবহার করে তৈরি অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
চিনির বাজারে জোগানের টান নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেক মিলেই আগের তুলনায় চিনির মজুত কমেছে। অন্যদিকে উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় আগামী দিনে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। ফলে বাজারে জোগান ঠিক না থাকলে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পেট্রলে ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আখের একটি অংশ চিনি উৎপাদনের বদলে ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে দেশে চিনি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যেই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। ২০ অগস্ট ২০২৬-এ ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই আমদানির অনুমতি ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য, দেশে চিনির জোগান বাড়িয়ে বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনা।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
