বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের মা হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই সামাজিক ব্যাধি দমনে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে সরকার এবার Zero Tolerance নীতি গ্রহণ করছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিগত ছয় মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ যাচাইকরণ অভিযান চালানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা মাতৃত্বের পেছনে দায়ীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এই সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের মতো কঠোর ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের সাথে জড়িত দোষী পরিবার বা স্বামীদের চিহ্নিত করে তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, রেশন বা অন্যান্য সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক ভাতা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত কাজী, পুরোহিত বা ব্যক্তি আইন অমান্য করে এই ধরনের বেআইনি বিয়ের আয়োজন বা সম্পন্ন করতে সাহায্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নবান্ন থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
