গাজার শিশুদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন মুম্বইয়ের কয়েক জন সক্রিয়কর্মী। সেই কর্মসূচির পরেই এক স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতে দীর্ঘ নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ ফিলিস্তিন (আইপিএসপি)-এর দাবি, তল্লাশির সময় কোনও পরোয়ানা বা লিখিত নোটিস দেখানো হয়নি।
ঘটনাটি শুক্রবারের। ‘গ্লোবাল গাজা কাইট উইকএন্ড’-এর অংশ হিসাবে ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গাজার শিশুদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। মুম্বইয়েও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন কয়েক জন সক্রিয়কর্মী।
আইপিএসপি-র অভিযোগ, শুক্রবার কয়েক জন সাদা পোশাকের ব্যক্তি নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষার্থী হর্ষদার বাড়িতে ঢোকেন। পরে সেখানে পোশাকধারী পুলিশকর্মীরাও যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত আড়াইটে পর্যন্ত বাড়িতে তল্লাশি চলে বলে দাবি সংগঠনটির।
হর্ষদার দাবি, তল্লাশির সময় তাঁর কয়েকটি বইয়ের তালিকা তৈরি করা হয়। পুলিশ বাড়ির বিভিন্ন অংশের ছবি ও ভিডিয়োও নেয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা দু’জনের মোবাইল ফোনও পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল বলে তিনি জানান। প্রায় দু’ঘণ্টা পরে ফোনগুলি ফেরত দেওয়া হয়। পরে পুলিশ একটি পঞ্চনামা তৈরি করে বলেও জানিয়েছেন হর্ষদা।
ওই কর্মসূচিতে যুক্ত আরও কয়েক জনকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জনকে বান্দ্রা থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আইপিএসপি। সংগঠনটির অভিযোগ, গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর মতো একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জেরেই এই পুলিশি তৎপরতা। তাদের দাবি, এতে নাগরিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশের বক্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। আম আদমি পার্টির মুম্বই শাখা সমাজমাধ্যমে পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, গাজার শিশুদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য রাতের বেলা সাদা পোশাকে পুলিশ গিয়ে বাড়িতে তল্লাশি চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শহরে অপরাধের তদন্তের পরিবর্তে পুলিশ কেন এই ঘটনায় এত সময় দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা। পাশাপাশি, পুলিশকে নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কোনও মন্তব্য করেননি। বান্দ্রার এক সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টরও জানান, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না।
ফলে কেন এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কী কারণে কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তল্লাশিতে কী কী নথিভুক্ত বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
