কোভিড-১৯ এর সময় দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা ছয় বছর পর খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় আদালত বলেছে, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখিয়ে তাঁদের মিথ্যাভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। অথচ পরে তাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।
২০২০ সালের ২ এপ্রিল জৌনপুরের শাহগঞ্জ থানায় ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন মারকাজে ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে থাকার সময় বিষয়টি গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের আশঙ্কা ছিল, ওই দুই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এবং তাঁদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্য বা অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরপর তাঁদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮, ২৬৯ ও ৩০৭ ধারায় মামলা করা হয়। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা আইন এবং মহামারি রোগ আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তের পর ২০২০ সালের ৮ মে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর নিম্ন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুই ব্যক্তিকে সমন পাঠায়।
এরপর ওই মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যান দুই ব্যক্তি। তাঁদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর তাঁদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তা সত্ত্বেও পুলিশ যথাযথ তদন্ত না করেই চার্জশিট জমা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীও আবেদনকারীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। এরপর এফআইআর, চার্জশিট-সহ মামলার নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি ড. গৌতম চৌধুরীর বেঞ্চ ওই দুই ব্যক্তির পক্ষে রায় দেয়।
আদালত জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল মূলত করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা ও অনুমানের ভিত্তিতে। কিন্তু তাঁদের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় সেই আশঙ্কার কোনও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দুই ব্যক্তিকে ‘falsely implicated’, অর্থাৎ মিথ্যাভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল ‘false and frivolous’।
এই পরিস্থিতিতে মামলা চালিয়ে যাওয়া আদালত ও আইনের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হবে বলে জানিয়ে পুরো ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
