‘গুন্ডা দমন বিল’ নিয়ে দিনভর জল্পনার পর শুক্রবার রাতে হঠাৎ সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটি অনুমোদন না করে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে দিনভর এমন খবর ছড়িয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের তরফেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে রাতে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে বিলটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে। তাই রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন—এমন কোনও প্রশ্নই নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গুন্ডা দমন বিল’ নামে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটিকে দুটি আলাদা অংশে বুঝতে হবে। এর একটি অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অন্য অংশটি এখনও সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিলের দ্বিতীয় অংশে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং জামিনের বিষয়টি রয়েছে। রাজ্যের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মাদক পাচার বা মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য করার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই অংশটি কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে কোনও সংঘাতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি বিষয়টি পরীক্ষা করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এর আগেও কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশে মাদক সংক্রান্ত আইনে সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছিল।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, বিলের কোথাও ‘গুন্ডা’ শব্দটি নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রচলিত অর্থে এই নামটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তাঁর বক্তব্য। তাঁর দাবি, আইনটির মূল উদ্দেশ্য হল অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা।
রাষ্ট্রপতির কাছে বিল ফেরত যাওয়ার খবরকে সরাসরি খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে যায়নি।’’ তাঁর আরও দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আইন বিভাগ-সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ বর্তমানে বিলটির বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর রাতের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছনোর আগের প্রক্রিয়াতেই রয়েছে। ফলে ‘গুন্ডা দমন বিল’ নিয়ে পরবর্তী সরকারি নথি বা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হলো।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
