এসআইআরের ফলে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে লক্ষ লক্ষ ভোটার! ট্রাইব্যুনালে আপিল করেও এখনও নাম ফেরেনি কয়েক লক্ষ ভোটারের? এবার ফের নাম তোলার সুযোগ। কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন, শনিবার তা স্পষ্ট করে জানাল নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের সময় বা তার পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা আবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাদের নাম এসআইআরের কারণে নাম বাদ যাওয়ার পর। ট্রাইবুনালে আপিল করেও নাম এখনও ফেরেনি, তাঁরাও ফের নাম তোলার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে জানালেন কমিশন।
কোথায় আবেদন করবেন?
ইআরও (ভোটার তালিকায় নাম তোলার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক)-র কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করে নাম ভোটার তালিকায় তোলা হবে কি না, সেই আধিকারিক নাম তোলার সিদ্ধান্ত নেবেন।
জানা গেছে, যাঁদের নাম এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার চূড়ান্ত লিস্টে ওঠেনি, তাঁরা সবাই নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগে নিয়ম ছিল, তালিকায় নাম না উঠলে মানুষ যে আপিল করেছিলেন, তার হেয়ারিং এর জন্য বসে থাকতে হতো। কিন্তু এখন আর অপেক্ষা করে বসে থাকতে হবে না। নিয়ম মেনে সরাসরি নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা যাবে। শুধু বাদ পড়া ভোটারদের জন্যই নয়, যাঁরা নতুন ভোটার এবং প্রথম বার ভোট দিতে চলেছেন, তাঁরাও ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রক্রিয়াটি সহজ করতে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ইআরও-দের (Electoral Registration Officer) নির্দেশ দিয়েছে যেন তাঁরা সাধারণ মানুষকে এই কাজে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। এর পাশাপাশি, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার বাদ না পড়েন এবং সবাই তাঁদের নাম তালিকায় তুলতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সচেতনতা প্রচার অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তবে রাজ্যের এসআইআর শেষ হওয়ার পরেও ভোটার তালিকা নিয়ে জট পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। তার পরও বাদ পড়া নাম ফেরানোর আবেদন এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিরুদ্ধে করা আপিলের একটি বড় অংশ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আপিলগুলির শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা করেছে।
সেখানে মূলত দু’ধরনের আবেদন জমা পড়েছে। একদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে আপিল, অন্যদিকে ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি। এই আপিলগুলির শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। কিন্তু মামলার সংখ্যা এত বেশি যে বর্তমান গতিতে কাজ চললে সব আপিল নিষ্পত্তি করতে বহু বছর সময় লাগতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন হিসাব অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত মোট আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার। এর মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফেরানোর জন্য। আর প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, শুধু নাম বাদ যাওয়ার বিষয় নয়, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিপুল সংখ্যক আপিল জমা পড়েছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে বাকি রয়েছে ৩৭ লক্ষেরও বেশি মামলা। এই হিসাব সামনে আসার পরই আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল এই মামলাগুলি দেখছে। কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বাড়ি থেকে কাজ করা এবং অনলাইনে শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার জন্য আদালতের কাছে জানিয়েছে কমিশন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর-এর পরে কারও নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন করতে পারবেন। নাম বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন ভোটার এবং প্রথম বার ভোট দিতে চলা ব্যক্তিরাও নিরবচ্ছিন্ন হালনাগাদ বা ‘কনটিনিউয়াস আপডেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
এই কাজে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ইআরও-দের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাদ পড়া বা নতুন করে নাম তোলার যোগ্য ভোটারদের জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে কমিশন।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
