২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হেলজেন। মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার এবং ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’-তে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এ বছরের নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।
নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং বৈদ্যুতিক আধানহীন এক ধরনের কণা। মহাবিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী উৎস থেকে এই কণাগুলি ছুটে আসে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, নিউট্রিনো মহাকাশের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রায় বাধাহীনভাবে পৃথিবীতে পৌঁছতে পারে। তাই এই কণার গতিপথ ও উৎস বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের অনেক অজানা ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।
ফ্রান্সিস হেলজেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফের স্তরকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা। নিউট্রিনো সাধারণত সরাসরি চোখে দেখা যায় না। তবে বরফের মধ্যে থাকা পরমাণুর সঙ্গে খুব বিরল ক্ষেত্রে নিউট্রিনোর সংঘর্ষ হলে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হয়। বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব।
এই ধারণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। দক্ষিণ মেরুর বরফের প্রায় এক ঘনকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল গবেষণা পরিকাঠামোতে অসংখ্য আলোক-সংবেদী সেন্সর বসানো রয়েছে। ২০১১ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়।
আইসকিউবের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাকাশের দূরবর্তী ও অত্যন্ত শক্তিশালী উৎস থেকে পৃথিবীতে পৌঁছনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এর ফলে বিজ্ঞানীদের সামনে মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়া থেকে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে গবেষণার নতুন পথ খুলে যায়।
নোবেল কমিটির মতে, এই কাজের মাধ্যমে উচ্চশক্তির নিউট্রিনোকে মহাবিশ্বের দূরবর্তী উৎস অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিউট্রিনোর সাহায্যে মহাবিশ্বের এমন কিছু রহস্য অনুসন্ধান করা সম্ভব হচ্ছে, যা অন্য উপায়ে জানা অত্যন্ত কঠিন।
১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করেন ফ্রান্সিস হেলজেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের অধ্যাপক। পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও আইসকিউব প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ বছরের নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনি।
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে ৫ অক্টোবর থেকে। প্রথম দিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান পিটার হেগেমান, জর্জ নাগেল এবং কার্ল ডেইসেরথ। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য ওই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
