খোলা সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ‘হোল্ডিং স্টেশন‘ তৈরি করা হয়েছে। সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী এবং রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম্‘ এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এদিন এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, খোলা সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে যারা ‘ল্যান্ড জিহাদ‘, ‘লাভ জিহাদ‘, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে হোল্ডিং স্টেশন এ রাখা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের যেখান থেকে এসেছেন, সেখানে ফেরত পাঠানোর (পুশব্যাক) ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু অনুপ্রবেশ রোধের বিষয়েই নয়, শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ধর্ম বাঁচানোর জন্য বা নিজের পরিচয় রক্ষার জন্য যারা ওপার থেকে ভারতে এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এর আওতায় হিন্দুসহ ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা। তিনি আরও জানান, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও চলছে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার ‘ল্যান্ড জিহাদ‘, ‘লাভ জিহাদ‘ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) কার্যকর করার বিষয়েও সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

