উত্তরপ্রদেশের বেরেলি রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে বিহারের এক মাদ্রাসা শিক্ষক তথা ইমামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম মৌলানা তৌসিফ রাজা মাজহারি (৩০)। তিনি বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ ব্লকের বখোটোলি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ট্রেনের ভেতরে নির্মমভাবে মারধর করার পর চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৌলানা তৌসিফ বেরেলিতে ‘উর্স অফ তজুশরিয়া’-তে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ঋষিকেশ-মুজাফফরপুর স্পেশাল ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার সকালে রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী তাবাসসুমের কাছে করা তৌসিফের শেষ ফোন কলটি এখন এই ঘটনার সবথেকে বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, তৌসিফ অত্যন্ত আতঙ্কিত কণ্ঠে স্ত্রীকে বলছেন, “হ্যালো তাবাসসুম… ওরা আমাকে ধরে ফেলেছে… ওরা খুব গালিগালাজ করছে।” তিনি আরও জানান, একদল মদ্যপ ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরেছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করছে। কামরায় অনেক যাত্রী থাকলেও কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। রেকর্ডিংটিতে তৌসিফকে বারবার আর্তনাদ করে বলতে শোনা যায়, “পুলিশকে ফোন করো… পুলিশ ভাইয়া সাহায্য করো।”
বেরেলি সিটি এসপি মানুষ পারিক জানান, গত ২৭শে এপ্রিল সকালে রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত পতন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। পুলিশ দাবি করেছিল, গরমের কারণে ট্রেনের জানালার পাশে বসে ঝিমুনি আসায় তিনি পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু রিপোর্ট আসার পর দেখা গেছে, মাওলানার মাথার খুলিতে গভীর ক্ষত ছিল এবং তাঁর বুকের সবকটি হাড় (পাঁজর) ভাঙা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং কোমায় চলে যাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এই রিপোর্ট আসার পর পরিবারের খুনের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। শুরুতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত পতন’ বলে দাবি করলেও, পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও অডিও প্রমাণ পাওয়ার পর তারা খুনের মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে। বেরেলি সিটি এসপি মানুষ পারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং কিষাণগঞ্জের সাংসদ ডঃ মোহাম্মদ জাভেদ এই ঘটনাকে ‘ঘৃণা ছড়ানোর রাজনীতি’র ফল হিসেবে অভিহিত করে দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

