নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কলকাতায় হওয়া একটি মিছিলের পর অশান্তির ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় কর্তব্যরত অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতেই তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “চিহ্নিত করে ফেলেছি। শুক্রবারের লোকেদেরই কাজ। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, এদের কী করতে হয় আমি জানি।” পরে আরও বলেন, “কটা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, আমি জানি। এই ‘শুক্রবারি’দের দেখিয়ে দেব।”
এরপর সামাজিক মাধ্যমেও একটি পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি লেখেন, “কলকাতায় কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে আহত সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। সাংবাদিকদের ওপর এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদের নামে গুণ্ডারাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।”
এদিকে আহত সাংবাদিকদের দেখতে পরে হাসপাতালে যান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “এটা কোনও ছাত্র আন্দোলনের রূপ নয়। এটা চূড়ান্ত স্বৈরাচার। যেসব ভিডিও দেখলাম, তাতে প্রতিবাদীদের যা কথা শুনলাম, তাতে আমি বিস্মিত। ভাবতেই পারছি না এটা ছাত্রদের আন্দোলন।”
অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন, অশান্তি সৃষ্টি করে তাঁদের উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এছাড়াও তাঁরা বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে তারা আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে যুক্ত নয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

