আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বড় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তার জন্য ১৪ জুন রাত ১০টা থেকে ২১ জুন অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত রেড রোড পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। রবিবারের এই মূল অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ট্র্যাফিক পুলিশ বিশেষ কিছু নিয়ম চালু করেছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসক শিবিরের কথায় আর কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। এর আগে একাধিকবার রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালো দাবি তোলা হয়েছিল যে, সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও যাতায়াতের অধিকার সবার আগে। রাস্তা আটকে বা পথচলতি মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে যেকোনো ধরণের উৎসব, মেলা বা ধর্মীয় কর্মসূচির তীব্র বিরোধিতা করেছিল গেরুয়া শিবির।
তাদের যুক্তি ছিল, জনজীবন সচল রাখাই প্রশাসনের প্রথম কাজ। কিন্তু বর্তমানের ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। এখন যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, যোগ ব্যায়াম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দের জন্যই করা হয়, তাই রেড রোডের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানে এই অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, যে দল আগে রাস্তা আটকে উৎসব-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করত, আজ তাদের সরকারের কর্মসূচির জন্যই কলকাতার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন টানা ৭ দিন ধরে বন্ধ রাখা হচ্ছে কেন?
এদিন কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ জুন ভোর ২টো থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেড রোড ছাড়াও মেয়ো রোড, হসপিটাল রোড, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ, কিংসওয়ে, কুইনসওয়ে এবং ডাফরিন রোডের মতো আশেপাশের রাস্তাগুলোতে সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ২১ জুন ভোর থেকে এজেসি বোস রোড, জেএল নেহেরু রোড এবং স্ট্র্যান্ড রোডের মতো বড় রাস্তায় মালবাহী বা লরি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
তবে হাওড়া বা ডালহৌসির দিকে যাওয়ার বাস ও গাড়িগুলোকে স্ট্র্যান্ড রোড বা এজেসি বোস রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় যাতায়াতের জন্য রেড রোডের বদলে জেএল নেহেরু রোড ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


