আর সর্দি-কাশির সমস্যায় ওষুধের দোকানে গিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাশির সিরাপ কিনতে পারবেন না। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ওষুধের অপব্যবহার রুখতে এখন থেকে যে কোনো কাশির সিরাপ কেনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের লিখিত প্রেসক্রিপশন দেখানো বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই কঠোর সিদ্ধান্তে এখন থেকে কোনো ওষুধের দোকানদারই প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রি করতে পারবেন না।
এতদিন পর্যন্ত ওষুধের দোকানে গেলে বেশ কিছু সাধারণ কাশির সিরাপ কোনো রকম প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যেত, যা চিকিৎসা পরিভাষায় ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়মাবলী, ২০২৬’ অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এর শিডিউল ‘কে’-এর ১৩ নম্বর ক্রমিকের ৭ নম্বর আইটেম থেকে “সিরাপ” (Syrups) শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, এখন থেকে সিরাপ জাতীয় ওষুধও অন্যান্য কড়া ওষুধের মতোই কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে।
একাংশের মতে, বাজারের বেশ কিছু কাশির সিরাপের অপব্যবহার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের বদলে নেশার সামগ্রী হিসেবে এই সিরাপ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে বলে খবর।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ছোটদের কাশির সিরাপ খাওয়ানোর ফলে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যই হলো, যে কোনো তরল ওষুধ ব্যবহারের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা যেন একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক পরীক্ষা করেন, তা নিশ্চিত করা।


