দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এবার বেনজির ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস. ওয়াই. কুরেশি। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেভাবে নাগরিকদের নাম ছেঁটে ফেলা হচ্ছে, তাকে সরাসরি “অযৌক্তিক, অবাস্তব, স্বেচ্ছাচারী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওড়িশার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুরেশি এক চাঞ্চল্যকর দাবি তোলেন। তিনি জানান, এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কারসাজিতে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫.৭ শতাংশ (প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি) নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
প্রাক্তন এই নির্বাচন প্রধানের প্রধান আপত্তি নাম বাদ দেওয়ার একমুখী প্রবণতা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের নীতিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আশ্চর্যের বিষয় হল, ভোটার তালিকায় শুধু নাম বাদ দেওয়ার (আউট-মাইগ্রেশন) কাজই চলছে। কোনো ‘ইন-মাইগ্রেশন’ বা নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ হচ্ছে না কেন? সব মানুষই কি শুধু এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন?” কুরেশি জোর দিয়ে দাবি করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম কাটা পড়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশই দেশের সম্পূর্ণ বৈধ ভোটার।
নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রাক্তন সিইসি স্পষ্ট জানান, “ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটার হওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে যদি একজন যোগ্য ব্যক্তির নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি। আর এর জন্য নিশ্চিতভাবে কমিশনকেই জবাবদিহি করতে হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসেও এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুরেশি সরব হয়েছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, কত বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া যায়। সেটাই যেন এই রিভিশন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর চরম ক্ষতি করছে।

