দুর্গাপুজোর আগে রেশন ব্যবস্থায় বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমে রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলিকে বিশেষ ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ এর আওতায় ময়দা, চিনি ও সুজি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, এই তিনটি সামগ্রী বাজারদরের তুলনায় ৫০ শতাংশ ছাড়ে দেওয়া হবে। রাজ্যের দাবি, এর ফলে রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ পরিবার এবং ৮ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবারপিছু ১ কেজি ময়দা, ১ কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম সুজি দেওয়া হবে। ময়দার জন্য কেজিপিছু ১৯ টাকা এবং চিনির জন্য কেজিপিছু ৩০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাজারদরের তুলনায় অর্ধেক দামে এই দুই সামগ্রী রেশন দোকান থেকে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ৫০০ গ্রাম সুজির চূড়ান্ত দাম এখনও নির্ধারিত হয়নি। সুজি কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রক্রিয়া শেষ হলেই এর দাম জানানো হবে।
এই পুজো স্পেশাল প্যাকেজের জন্য খাদ্য দফতরকে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ময়দা ও চিনির টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সুজির টেন্ডার প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকার এই প্যাকেজের খরচের একটি বড় অংশ বহন করবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সামগ্রীর বাকি ৫০ শতাংশ মূল্যের ভর্তুকি রাজ্য সরকার দেবে।
শুক্রবারই বনগাঁয় সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিশেষ রেশন প্যাকেজের কথা জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তবে তখন ময়দা, চিনি ও সুজির নির্দিষ্ট দাম জানানো হয়নি। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় ময়দা ও চিনির দাম স্পষ্ট হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উৎসবের মরশুমে রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ পরিবারকেই এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। পাঁচ ধরনের রেশন কার্ডের উপভোক্তাদের মধ্যেও এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে দুর্গাপুজোর সময় নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির রেশন কার্ডধারীকে সীমিত ছাড়ে এই ধরনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হত। তাঁর দাবি, আগের ব্যবস্থায় অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা এবং বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারের কার্ডধারীরা প্রায় ১০ শতাংশ ছাড় পেতেন। এবার সেই পরিসর বাড়িয়ে রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা সব শ্রেণির পরিবারকে পুজো প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে।
সামগ্রীর সম্ভাব্য বাজারদরের হিসাবও তুলে ধরেছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারে চিনির দাম যদি কেজিপিছু ৬০ টাকা হয়, তাহলে রেশন ব্যবস্থায় তা ৩০ টাকায় দেওয়া হবে। একইভাবে ময়দার বাজারদর যদি কেজিপিছু ৩৭ টাকা হয়, তাহলে রেশন দোকানে প্রায় ১৮-১৯ টাকায় পাওয়া যাবে। সুজির ক্ষেত্রে বাজারদর কেজিপিছু প্রায় ৪০ টাকা হলে ২০ টাকা দরে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সুজির চূড়ান্ত রেশন মূল্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রথমে এই সামগ্রীগুলি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলতি বছরে ৫০ শতাংশ ছাড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর্থিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে উৎসবের সময় এই খাদ্যসামগ্রী বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
পুজোর সময় এই সুবিধা শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তার জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্যাকেজে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভাজন করা হচ্ছে না। রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা ২ কোটি ১২ লক্ষ পরিবারকেই এই সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ঘোষণা হলেও সুবিধাটি রেশন কার্ডের ভিত্তিতেই দেওয়া হবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
এদিনের ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের পুজোর সময়কার রেশন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, আগে প্রায় ২ কোটি পরিবারকে ২০ শতাংশ ছাড়ে এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হত। এবার সেই ছাড় বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে পুজোর আগে রেশন দোকান থেকে ময়দা, চিনি ও সুজি কেনার ক্ষেত্রে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিবার সরাসরি সুবিধা পাবেন।
এখন নজর রয়েছে রেশন দোকানে এই প্যাকেজ কবে থেকে দেওয়া শুরু হবে এবং সুজির চূড়ান্ত দাম কত নির্ধারণ করা হয় তার দিকে। ময়দা ও চিনির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এই দুই সামগ্রীর সরবরাহ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। সুজির টেন্ডার শেষ হওয়ার পর তিনটি সামগ্রী মিলিয়ে পুজোর বিশেষ রেশন প্যাকেজের সম্পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
