রাজনীতির ময়দান ছেড়ে এবার কি তবে পুরোদস্তুর আদালতের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সুপ্রিম কোর্টের পর বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় সওয়াল করতে হঠাৎ-ই আইনজীবীর কালো কোট, গাউন আর সাদা ব্যান্ড পরে এজলাসে হাজির হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর এই ‘আইনজীবী অবতার’ ঘিরেই এবার ঘনীভূত হচ্ছে আইনি বিতর্ক। যার জেরে অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের আইনি পেশার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)।
মূল ঘটনা কী?
নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর মতো বড় পদে থাকলে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন না। সেই সময় ওকালতির লাইসেন্স জমা রাখতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই লম্বা সময়ে তিনি নিয়ম মেনে লাইসেন্স জমা দিয়েছিলেন কি না, আর এখন আবার প্র্যাকটিস শুরু করার আগে আবার অনুমতি নিয়েছেন কি না তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে দেশের আইনজীবীদের মূল নিয়ামক সংস্থা ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া‘ (BCI)।
বিসিআই মমতা কে নিয়ে চিঠিতে কি বলেছে জানুন
1. বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলে তাঁর নাম নথিভুক্তকরণ বা এনরোলমেন্ট নম্বর এবং তারিখ কত?
2. রাজ্য বার কাউন্সিলের ‘অ্যাডভোকেটস রোল’-এ তাঁর নাম বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে কি না?
3. মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কি স্বেচ্ছায় প্র্যাকটিস স্থগিত (Voluntary Suspension) করার আবেদন জানিয়েছিলেন?
4. প্র্যাকটিস পুনরায় শুরু করার জন্য তিনি কি কোনো আবেদন (Resumption) করেছেন যা রাজ্য বার কাউন্সিল গ্রহণ করেছে?
5. বর্তমানে তাঁর ওকালতির লাইসেন্স বৈধ নাকি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে?
এদিন মমতার হাইকোর্ট আইনজীবী হয়ে যাওয়ার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য বার কাউন্সিলকে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন বিসিআই এর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শ্রীমন্ত সেন। চিঠিতে আগামী ১৬ মের মধ্যে (৪৮ ঘণ্টা) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওকালতির লাইসেন্স ও প্র্যাকটিস সংক্রান্ত সমস্ত নথির সার্টিফাইড কপি তলব করা হয়েছে।



