রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আজ, ২১ সেপ্টেম্বর সেই তালিকা প্রকাশের ২০৫ দিন পার হয়ে গিয়েছে। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এখনও মেটেনি। তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফের তোলার জন্য করা বিপুল সংখ্যক আবেদন বা আপিল এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিলগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া ভারতের নির্বাচন কমিশনের একটি হলফনামা থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলিতে মূলত দুই ধরনের বিষয় নিয়ে আপিল জমা পড়েছে। প্রথমত, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি।
এই আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালগুলিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ট্রাইব্যুনালগুলিতে যে গতিতে আপিলের নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে বকেয়া সব আবেদন মেটাতে কমপক্ষে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালগুলি মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। সেই অনুযায়ী, মাসে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার ২৩৮টি করে আপিল নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই কাজের গতি ধরে রেখে সপ্তাহের সাত দিন টানা কাজ করলেও বাকি সব আবেদন মেটাতে প্রায় ১৪৬ মাস সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই শেষ হতেই ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালগুলিতে ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আপিল এখনও বাকি রয়েছে। কমিশনের নতুন হিসাব বলছে, এসআইআর-সংক্রান্ত বিষয়ে মোট প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার আপিল জমা পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ ২১ হাজারটি আবেদন ছিল ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম আবার ফেরানোর জন্য। আর বাকি প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজারটি আবেদন ছিল ভোটার তালিকায় ভুল নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তির।
এই বিপুল সংখ্যক আপিল দ্রুত মেটাতে এবার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৯টি ট্রাইব্যুনাল এই আপিলের শুনানি করছে। মামলার পাহাড় দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এর পাশাপাশি, কাজের গতি আরও বাড়াতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বাড়ি থেকে কাজ বা অনলাইন শুনানির অনুমতি দেওয়ার কথাও আদালতের কাছে জানিয়েছে কমিশন।
সেই জেলা-ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী কোন জেলায় কত আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল এবং কতগুলি এখনও বাকি ছিল, দেখে নিন—
১/ মুর্শিদাবাদ: মোট ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯২১টি আপিলের মধ্যে ৫১৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪০৭টি।
২/ মালদহ: মোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৪৫টি আপিলের মধ্যে ১ হাজার ৫১৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৩১টি।
৩/ উত্তর ২৪ পরগনা: মোট ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৭৫টি আপিলের মধ্যে ৩০১টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৪টি।
৪/ দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মোট ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৫৪টি আপিলের মধ্যে ২২ হাজার ৪৯টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭০৫টি।
৫/ উত্তর দিনাজপুর: মোট ৩ লক্ষ ১২ হাজার ২৫৯টি আপিলের মধ্যে ৯ হাজার ১০৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৩ লক্ষ ৩ হাজার ১৫৫টি।
৬/ পূর্ব বর্ধমান: মোট ২ লক্ষ ৮০ হাজার ২৯টি আপিলের মধ্যে ১৩১টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮৯৮টি।
৭/ নদিয়া: মোট ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৯২টি আপিলের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৭টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১৯৫টি।
৮/ হাওড়া: মোট ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৭টি আপিলের মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৩৯৩টি।
৯/ কোচবিহার: মোট ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৫৫টি আপিলের মধ্যে ১ হাজার ২৫২টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৩০৩টি।
১০/ বীরভূম: মোট ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৮৬টি আপিলের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৩টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৫৩টি।
১১/ হুগলি: মোট ১ লক্ষ ৭ হাজার ১১১টি আপিলের মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৬টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৭৯ হাজার ৭৫৫টি।
১২/ দক্ষিণ দিনাজপুর: মোট ৮৫ হাজার ১০৫টি আপিলের মধ্যে ১০ হাজার ২৫৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৭৪ হাজার ৮৫১টি।
১৩/ পশ্চিম বর্ধমান: মোট ৬৪ হাজার ৮২৯টি আপিলের মধ্যে ৯৩৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৬৩ হাজার ৮৯৫টি।
১৪/ জলপাইগুড়ি: মোট ৬১ হাজার ৯১টি আপিলের মধ্যে ৭৫৫টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৬০ হাজার ৩৩৬টি।
১৫/ পশ্চিম মেদিনীপুর: মোট ৫৭ হাজার ৭টি আপিলের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৫টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৫৫ হাজার ৬১২টি।
১৬/ দার্জিলিং: মোট ৫১ হাজার ৩২টি আপিলের মধ্যে ১৬০টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৫০ হাজার ৮৭২টি।
১৭/ আলিপুরদুয়ার: মোট ৪৪ হাজার ৫৫৭টি আপিলের মধ্যে ২৪১টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৪৪ হাজার ৩১৬টি।
১৮/ পূর্ব মেদিনীপুর: মোট ৪১ হাজার ২১০টি আপিলের মধ্যে ৭৭০টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৪০ হাজার ৪৪০টি।
১৯/ কলকাতা দক্ষিণ: মোট ৩৯ হাজার ৮৫০টি আপিলের মধ্যে ৮২৯টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৩৯ হাজার ২১টি।
২০/ কলকাতা উত্তর: মোট ২৯ হাজার ৬২৮টি আপিলের মধ্যে ৯৮২টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ২৮ হাজার ৬৪৬টি।
২১/ বাঁকুড়া: মোট ১৯ হাজার ১৫৯টি আপিলের মধ্যে ৬ হাজার ৮৭৪টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ১২ হাজার ২৮৫টি।
২২/ পুরুলিয়া: মোট ১৫ হাজার ৫টি আপিলের মধ্যে ৮ হাজার ৩৩৯টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৬ হাজার ৬৬৬টি।
২৩/ কালিম্পং: মোট ৩ হাজার ৬৪৭টি আপিলের মধ্যে ৩২টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৩ হাজার ৬১৫টি।
২৪/ ঝাড়গ্রাম: মোট ৩ হাজার ৫৬৯টি আপিলের মধ্যে ৪১টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। বাকি ছিল ৩ হাজার ৫২৮টি।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
