বাংলার চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সূচনা, কোন কোন সুবিধা পাবেন এবার? জানুন বিস্তারিত

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য খুলে গেল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এর দরজা।  সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঐতিহাসিক মউ (MoU) স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।  সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নড্ডা-সহ কেন্দ্র এবং রাজ্যের আরও অনেকে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এই প্রকল্পের মাধ্যমে‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসা সুবিধা দেবে।  এর অধীনে রাজ্যের ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ পরিবারপিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।  এই সুবিধার সবচেয়ে বড় দিক হলো, এর পরিধি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।  দেশের যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আয়ুষ্মান ভারত তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এই কার্ড দেখালেই মিলবে উন্নত মানের চিকিৎসা।

কোন কোন জটিল রোগের চিকিৎসা হবে এর আওতায়?

আয়ুষ্মান ভারত বা ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (PM-JAY) এর আওতায় মোট ১,৯২৯ ধরণের জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।  যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
. ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপি।
. হৃদরোগীদের জন্য বাইপাস সার্জারি।
. কিডনি রোগীদের জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিস।
. অর্থোপেডিক এবং গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজির মতো জটিল অস্ত্রোপচার।

তবে মনে রাখতে হবে, সাধারণ ওপিডি (OPD) পরিষেবা, কসমেটিক সার্জারি, দাঁতের সাধারণ চিকিৎসা বা আইভিএ এর মতো পরিষেবাগুলো এই বিমার আওতাভুক্ত নয়।

সবথেকে বড় সুবিধা হলো, এই প্রকল্পের সুবিধা কেবল পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজ্যের যেসকল মানুষ কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে অন্য রাজ্যে থাকেন, তারাও কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত তালিকাভুক্ত যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এই কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসা করাতে পারবেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্র সরকার রাজ্যকে ৫২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর পাশাপাশি সামগ্রিক পরিকাঠামো মজবুত করার জন্য আরও ৯৭৬ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজ্যের গরিব মানুষের সুবিধার্থে আগামী দিনে ৪৬৭টি নতুন ‘জনৌষধি কেন্দ্র’ খোলা হবে, যেখানে সুলভ মূল্যে ওষুধ পাওয়া সম্ভব হবে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।