২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য প্রশাসন। আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) অফিসারদের একযোগে বদলি করার যে নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল, তা নিয়ে দায়ের করা মামলাটি আজ সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিল, ভোট সামলানোর জন্য অফিসারদের বদলি করার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের আছে।
ভোট ঘোষণার পরেই নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ প্রধান (DGP)-সহ প্রায় ৭৯ জন বড় অফিসারকে বদলি করার নির্দেশ দেয়। এছাড়া ৩০০-র কাছাকাছি বিডিও (BDO) এবং থানার ওসি (OC)-দেরও একযোগে বদলি করা হয়। এর প্রতিবাদে আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। এই মামলার হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর এবং আবেদনকারীর দাবি ছিল, এভাবে একসাথে সব বড় অফিসারদের সরিয়ে দিলে রাজ্যের কাজকর্মে সমস্যা হবে।
আজ, মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ জানায় ভোট যাতে শান্তিতে এবং ঠিকমতো হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাই কোন অফিসার কোথায় কাজ করবেন বা কাকে কোথায় বদলি করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো অধিকার কমিশনের আছে। এছাড়াও আদালত এদিন বলেন এই বদলি আটকানোর মতো তেমন কোনো জোরালো কারণ বা প্রমাণ নেই। তাই আদালত এই মামলাটি বাতিল করে দিয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনের সিদ্ধান্তই বজায় থাকছে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় দুই দফায় ভোট। তার আগে আদালতের এই রায়ের ফলে রাজ্য প্রশাসনের ওপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হলো। এখন থেকে নবান্ন নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই বড় বড় আমলা ও পুলিশ কর্তাদের কাজ করতে হবে।

