দীর্ঘদিনের আশঙ্কা সত্যি করে অবশেষে দেশজুড়ে বৃদ্ধি পেল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলো লিটার প্রতি গড়ে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। বিশ্ববাজারে দামও বাড়ে জ্বালানি তেলের। একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলে ১০০ থেকে ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বিপণন সংস্থাগুলো লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল, যা সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি।
এরই মধ্যে দেশের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা এল। গতকাল যেখানে পেট্রোলের দাম ছিল ১০৫.৪১ টাকা, আজ ৩.২৯ টাকা বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকায়। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩.১১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯৫.১৩ টাকা। শুধু বড় শহর নয়, জেলাগুলোতেও পরিবহণ খরচের কারণে এই দাম আরও কিছুটা হেরফের হতে পারে।
শুধু কলকাতায় না দেশের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেল উভয় ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে ৩ টাকা করে, ফলে সেখানে পেট্রোলের নতুন দাম হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৯০.৬৭ টাকা। মুম্বইতে পেট্রোল ৩.১৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০৬.৬৮ টাকা এবং চেন্নাইতে ২.৮৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩.৬৭ টাকায়।
সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম‘ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে অনলাইন ক্লাস এর পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করল। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বাস, অটো ও পণ্যবাহী লরির ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে।

