যুদ্ধ দূরে, ধাক্কা ঘরে! – কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চাপে ফেলছে ভারত-কে?

লিখেছেন: তামিম আখতার (লেখক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং কোচবিহারের বাসিন্দা। তিনি নিয়মিত সমসাময়িক রাজনীতি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি করেন)।

MD 360 NEWS
10 Min Read
Highlights
  • যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি ভারতে?
  • তেলের আগুনে বাড়ছে খরচ!
  • রুপির ওপর ভয়াবহ চাপ!
  • শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা?
  • সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ!
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তার আগুন শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।  দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে, এবং সরাসরি অভিঘাত এসে পড়েছে ভারতের মতো জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতির ওপর।  ভারতের জন্য এটি কোনো দূরবর্তী আন্তর্জাতিক ঘটনা নয়—বরং একটি বহুমাত্রিক সংকট যা তেলের মূল্যবৃদ্ধি, রুপির অবমূল্যায়ন, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা, বিদেশি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা, গাল্ফে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিকের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি পর্যন্ত সবকিছুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

২০২৬ সালের শুরুতে উত্তেজনা বাড়তেই প্রথম ধাক্কা আসে ভারতের শেয়ার বাজারে।  ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (এফআইআই) ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে অর্থ তুলে নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিচ্ছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহেই সেনসেক্স ও নিফটি ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখেছে।  ভারতের মোট বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হলে, মাত্র ৫ শতাংশ পতনই প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ হ্রাসের সমান।  তেল, এভিয়েশন, ব্যাংকিং ও আমদানি-নির্ভর শিল্পগুলোর শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ফলে রুপির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যা আমদানি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।  দীর্ঘস্থায়ী হলে এই পরিস্থিতি কর্পোরেট বিনিয়োগ স্থগিত করা থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেওয়া পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

এর পরপরই সবচেয়ে বড় ও সরাসরি চাপ তৈরি হয় জ্বালানি খাতে।  আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, কারণ ইরান অঞ্চলটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং Strait of Hormuz দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।  ভারত তার মোট প্রয়োজনের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ক্রুড অয়েল আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত থেকে।  যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০-১৫ ডলার বেড়ে গেলে ভারতের বার্ষিক আমদানি বিল প্রায় ১৫-২০ বিলিয়ন ডলার (১.২ থেকে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা) পর্যন্ত বাড়তে পারে।  এর সঙ্গে শিপিং ইনস্যুরেন্স ও ফ্রেইট চার্জ যুক্ত হলে মোট খরচ আরও বাড়ে।  এই বাড়তি জ্বালানি ব্যয় শুধু সরকার বা তেল কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির দাম বেড়ে গেলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কৃষি পণ্য থেকে শিল্পজাত পণ্য—সব কিছুর উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় বেড়ে যায়।  ফলস্বরূপ বাজারে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানার জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে যেতে পারে বা পণ্যের দাম বাড়াতে হয়, যা চাহিদা কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেয়।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা যখন নিরাপদ মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন রুপির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়।  যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রুপি ৮৫-৯০ টাকা বা তার নিচে নেমে গেলে প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রতিটি টাকা অবমূল্যায়নে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি আমদানি ব্যয় হয়।  রুপি ৫-৭ টাকা দুর্বল হলে মোট বাড়তি চাপ ২ থেকে ৩ লক্ষ কোটি টাকার সমতুল্য হতে পারে।  এই মুদ্রার অবমূল্যায়ন সরাসরি জ্বালানি, সার, ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উস্কে দেয়।  একইসঙ্গে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তখন ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।  সাধারণ পরিস্থিতিতে মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি যেখানে ২০-২৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকে, সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা সহজেই ৩০-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে—অর্থাৎ প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঘাটতি, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকার সমতুল্য।  এই ঘাটতি পূরণ করতে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খরচ করতে হয় বা বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের পর যে প্রভাবটি সাধারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়, তা হলো মুদ্রাস্ফীতির তীব্র বৃদ্ধি।  পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্য, সবজি, শস্য, দুধ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি দৈনন্দিন পণ্যের দামে যোগ হয়।  ভারতের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি যেখানে ৪-৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য করা হয়, সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা সহজেই ৭-৯ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে যেতে পারে।  খাদ্য ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ২-৩ শতাংশ বাড়লে একটি সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বছরে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।  কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়, যা ঘরবাড়ি, গাড়ি বা ব্যবসায়িক ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীর করে দেয়।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।  যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বন্দর বন্ধ, শিপিং রুট ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইনস্যুরেন্স খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে।  গাল্ফ অঞ্চলে রপ্তানি ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেলে মাসিক ৫-৮ বিলিয়ন ডলার (৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আয় হ্রাস পেতে পারে। লজিস্টিক খরচ ১৫-২৫ শতাংশ বেড়ে গেলে ভারতের বার্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ১ থেকে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার চাপ তৈরি হয়।  সবচেয়ে বড় আশঙ্কা উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক ও শ্রমিক—যাদের একটি বড় অংশ নিম্ন ও মধ্য আয়ের। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল ব্যাহত, বন্দর বন্ধ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারত সরকারকে জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়, যার খরচ পরিবহন, আশ্রয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন মিলিয়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।  একইসঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগে।  ভারত বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স পায়, যার বড় অংশ গাল্ফ থেকে। রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০-২৫ শতাংশ হ্রাস ঘটলে বছরে ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৫ থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকা) বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষতি হতে পারে।  এই অর্থ সরাসরি গ্রামীণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে পৌঁছায়—তা কমে গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয়ও কমে যায়।

শিল্প ও উৎপাদন খাতেও ধীরগতি তৈরি হয়।  আমদানিকৃত কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়ে আনতে বাধ্য হয় শিল্প সংস্থাগুলো।  বিশেষ করে অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, কেমিক্যাল, স্টিল ও টেক্সটাইল শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  কাঁচামালের সরবরাহে ২০-৩০ শতাংশ বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদনেও একই অনুপাতে পতন দেখা দিতে পারে। বড় শিল্প খাতগুলোর উৎপাদন ৫-১০ শতাংশ কমে গেলে বছরে ২-৩ লক্ষ কোটি টাকার সমতুল্য অর্থনৈতিক আউটপুট ক্ষতি হতে পারে।  পর্যটন ও এভিয়েশন খাতও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ভাড়া ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, অনেক ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত হয়ে যায়।  পর্যটন খাতে মিলিয়ে বছরে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকার সমতুল্য ক্ষতি হতে পারে।

শিল্প উৎপাদন কমে গেলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থায়।  অনেক কোম্পানি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, ফলে ব্যাংকের খারাপ ঋণ (এনপিএ) বেড়ে যায়—অতীতে অর্থনৈতিক মন্দার সময় যা ২-৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬-৮ শতাংশে পৌঁছেছে।  মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে আরবিআই রেপো রেট বাড়ালে ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়, ইএমআই বাড়ে, সাধারণ মানুষের খরচ কমে যায়।  দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ব্যাংকিং খাতে ২ থেকে ৪ লক্ষ কোটি টাকার ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ তৈরি হতে পারে।  এরপর সরকারের ওপরও চাপ পড়ে।  জ্বালানি ভর্তুকি বাড়াতে হয়, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর হয়ে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কমে যায়।  ফিসক্যাল ডেফিসিট জিডিপির ৫.৫-৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬.৫-৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।  আর সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়—উচ্চ আয়ের মানুষ কিছুটা সামলে নিলেও নিম্নবিত্ত শ্রেণি দ্রুত দারিদ্র্যের দিকে চলে যায়।  আনুমানিক ১ থেকে ২ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে।

এই পুরো পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত।  জ্বালানি, রেমিট্যান্স ও বাণিজ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।  তাই এখন করণীয় কী? প্রথমত, জ্বালানি আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির বিকল্প উৎস তৈরি করা জরুরি, পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও বৃহৎ বিনিয়োগ করতে হবে।  দ্বিতীয়ত, কৌশলগত তেল মজুত বাড়িয়ে অন্তত ৯০ দিনের চাহিদার সমতুল্য সংরক্ষণ করতে হবে।  তৃতীয়ত, প্রবাসী শ্রমিক ও রেমিট্যান্সের বাজার বৈচিত্র্য করতে ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করতে হবে।  চতুর্থত, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে বাস্তবায়ন করে ইলেকট্রনিক্স, কেমিক্যাল, সার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।  পঞ্চমত, রিজার্ভ ব্যাংককে সুদের হার সামঞ্জস্য, বাজার হস্তক্ষেপ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে রুপির পতন রোধ করতে হবে।  এ ছাড়া ইরান, ইসরায়েল, আমেরিকা ও গাল্ফ দেশগুলোর মধ্যে সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।  মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের ধাক্কা থেকে দরিদ্রদের রক্ষায় খাদ্য ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও কর্মসংস্থান প্রকল্প বাড়াতে হবে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ভারতের জন্য শুধু একটি দূরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এটি একটি ওয়েক-আপ কল।  একটি বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি কখনোই বাইরের অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।  তবে এই সংকটের মধ্যেই শিক্ষা লুকিয়ে আছে—অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বহুমুখী বাণিজ্য সম্পর্ক ও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।  সঠিক নীতি, দূরদর্শিতা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি গ্রহণ করতে পারলে ভারত শুধু এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে না, বরং আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

Share This Article