ভোটের আর মাত্র ২২ দিন বাকি। অথচ এখনও হাজার হাজার ভোটার জানেন না, তাঁরা আদৌ এবার ভোট দিতে পারবেন কি না। একের পর এক ৬টি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও বহু বৈধ ভোটারের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি। দীর্ঘদিনের ভোটাররাও হঠাৎ করে নিজেদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পর রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বর্তমানে ‘বিবেচনাধীন’ বা Under Adjudication অবস্থায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই বিশাল জট কাটাতে প্রায় ৭০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে কাজে নামানো হয়েছে। তাঁরা নিয়মিতভাবে আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ থেকে ২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ব্যবধানে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন।
তবে এখানেই বড় প্রশ্ন উঠছে সাধারণ ভোটারদের মনে। ভোটের আগে হাতে খুব কম সময় রয়েছে। এই অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছেন বহু ভোটার । আর যদি নিষ্পত্তি হয়ও, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের ভোটাধিকার ভবিষ্যৎ কী হবে সেই প্রশ্নও থেকে যায়।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের জন্য আপিল ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করেছে কমিশন এর জন্য ২৩ জেলায় ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা হয়েছে, যারা আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজ করবেন। এই ট্রাইব্যুনালে আপিল করার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের মাত্র বাকি ২২ দিন, ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যদি কোনও আবেদনকারীর নাম ভোটের কয়েক দিন আগে বাতিল হয়, তাহলে তিনি আপিল প্রক্রিয়া শেষ করে কবে তালিকায় নাম তুলবেন এবং কবে ভোট দেবেন যা এখনও স্পষ্ট নয়। এরফলে দীর্ঘদিন ভোট দিয়ে আসা বহুসংখ্যক মানুষ এবার ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ডুবে বাংলা।
যদিও নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে যে নির্বাচনের আগেই যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

