মালদায় কালিয়াচকে নির্বাচনী ডিউটিতে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে গত বুধবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে বসেন। এই ঘটনার জেরে অফিসের ভেতরেই সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক দীর্ঘ সময় বন্দি হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ এবং পরে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকে পড়া আধিকারিকদের বের করে আনার সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আধিকারিকদের গাড়ি দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মৃত্যুর খবর অস্বীকার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হতাহতের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একজন পুলিশকর্মী ও এক স্থানীয় বাসিন্দা সামান্য চোট পেলেও তাঁরা এখন স্থিতিশীল। তবে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে (DGP) শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নিয়ে হলফনামা তলব করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। আগামী ৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
