চলতি বছরের নিট ইউজি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা পড়ুয়াদের প্রতীক্ষার অবসান। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আজ, ২৬ এপ্রিল প্রকাশ করতে চলেছে নিট ইউজি (NEET UG) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। যে সমস্ত পরীক্ষার্থী এ বছর ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে চলেছেন, তাঁরা এনটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের অ্যাডমিট কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
কিভাবে ডাউনলোড করবেন
পরীক্ষার্থীরা এনটিএ-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট exams.nta.ac.in/NEET এ গিয়ে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অ্যাডমিট কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য এই কার্ডের একটি প্রিন্ট করা কপি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
ইতিমধ্যেই পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কোন শহরে পরীক্ষা পড়েছে, সেই ‘সিটি ইনটিমেশন স্লিপ’ প্রকাশ করেছে। এনটিএ সূত্রে খবর, এ বছর পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের ধকল কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যার ফলে প্রায় ৯৯.২ শতাংশ পরীক্ষার্থীই তাঁদের প্রথম পছন্দের শহরটি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পেয়েছেন।
নিট পরীক্ষা হচ্ছে – এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সে পড়তে নিট পরীক্ষায় পাস করা বাধ্যতামূলক। নিট সর্বভারতীয় স্তরে আয়োজন করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। নিটে পরীক্ষা দিতে হলে প্রার্থীকে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়গুলো থাকা বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য যে, আগামী ৩ মে দেশের ৫৫২টি এবং বিদেশের ১৪টি শহরে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবছর প্রায় ২৫ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসতে চলেছেন। পরীক্ষা পেন এবং পেপার (অফলাইন) মোডে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে। নিট পরীক্ষা বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি-সহ মোট ১৩টি আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা দুপুর ২টো থেকে শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সকাল ১১টা থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রের গেট খুলে দেওয়া হবে। তবে কড়া নিয়ম অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের পর আর কোনও পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। শেষ মুহূর্তের বিভ্রান্তি এড়াতে পরীক্ষার্থীদের অন্তত একদিন আগে নিজেদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রটি পরিদর্শন করার পরামর্শ দিয়েছে এনটিএ।
পরীক্ষা কেন্দ্রে জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থীদের পোশাক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অলঙ্কার— সবের ওপর থাকছে কড়া নজরদারি। বড় বোতামযুক্ত বা আঁটোসাঁটো পোশাক পরে কেন্দ্রে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গয়নার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়াকড়ি; গলার হার, নাকের পিন, কানের দুল বা হাতের ব্রেসলেটের মতো কোনও ধাতব সামগ্রী বা অলঙ্কার পরে পরীক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এমনকি ছোট কাগজের টুকরো বা খাবার জিনিস সাথে রাখাও নিষিদ্ধ। পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র নিজেদের সাথে একটি স্বচ্ছ জলের বোতল রাখতে পারবেন। মোবাইল, ইয়ারফোন বা ব্লুটুথের মতো কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় আনা যাবে না। পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে এবং কোনও পরীক্ষার্থী অনৈতিক পথে হাঁটলে তাঁকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এনটিএ এবার আরও কড়া। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই আসল (Original) আইডি প্রুফ সাথে রাখতে হবে; মোবাইল বা জেরক্স কপি কোনওভাবেই গ্রাহ্য হবে না। বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড ব্যবহার করা আবশ্যক, তবে বিকল্প হিসেবে রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা দ্বাদশ শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ড সাথে রাখা যেতে পারে। প্রবেশপত্রের নির্ধারিত স্থানে পরীক্ষার্থীকে আগেভাগেই স্বাক্ষর করে নিতে হবে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন কোনও পরীক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে পারবেন না এবং পরীক্ষা শেষে ওএমআর (OMR) শিটের মূল কপিটি দায়িত্বরত পরীক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক।


