রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই এনআরসি, সিএএ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে নানাবিধ জল্পনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে বনগাঁ মহকুমা তথা রাজ্যের বহু মতুয়া উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন মতুয়া মহলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই তাঁদের আশ্বস্ত করতে এগিয়ে এলেন রাজ্যের নতুন খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও কোনো মতুয়া উদ্বাস্তুকে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। তবে এর স্থায়ী আইনি সমাধানের জন্য তিনি সবাইকে দ্রুত সিএএ (CAA) পোর্টালে আবেদনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া এক বড়সড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের রেশন কার্ড যেন অবিলম্বে বাতিল করা হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের করের টাকায় কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে না। পূর্বতন সরকারের জমানায় ভুয়ো নথির সাহায্যে যে সমস্ত রেশন কার্ড তৈরি করা হয়েছিল, খাদ্য দফতর দ্রুত সেগুলিকে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিলের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে খাদ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়া উদ্বাস্তুদের সিএএ নিয়ে লাগাতার ভুল বুঝিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের মনে অযথা ভীতি তৈরি করেছিলেন। সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যে সমস্ত মতুয়া উদ্বাস্তু এখনও আবেদন করেননি, আপনারা দ্রুত সিএএ-তে ফর্ম ফিলাপ করুন। সিএএ-তে আবেদন করলেই আপনাদের সমস্ত নাগরিক অধিকার এবং সরকারি পরিষেবা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ ও সুনিশ্চিত থাকবে।” তিনি আরও জানান যে, বাতিল হওয়া মতুয়াদের অনেকেই ইতিমধ্যে সিএএ-তে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এবং বাকিদেরও আর দেরি না করে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করা উচিত।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার ফলে নাম বাদ যাওয়া মতুয়ারা সরকারি পরিষেবা পাবেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ভোটার তালিকায় নাম কাটা গেলেও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁরা আগের মতোই সরকারি রেশনসহ অন্যান্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেতে থাকবেন। সাময়িকভাবে কোনো পরিষেবা বন্ধ হবে না। তবে এই সুরক্ষাকবচকে স্থায়ী রূপ দিতে এবং সমস্ত আইনি জটিলতা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে সিএএ তে আবেদন করতে বলেন।
