মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া দামের কারণে ভারতে আবারও বড়সড় ধাক্কা খেল জ্বালানির বাজার। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দেশজুড়ে দ্বিতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। গত শুক্রবার এক ধাক্কায় লিটারপিছু প্রায় ৩ টাকা দাম বাড়ার পর, আজ মঙ্গলবার সকালে নতুন করে কার্যকর হয়েছে বর্ধিত মূল্য। এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দু’বার দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের।
দাম বাড়ার বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ‘ (Strait of Hormuz) এলাকার অস্থিরতা এখনও কাটেনি। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছিল দেশীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলো, যা সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। যদিও সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলো স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে।
মঙ্গলবারের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের চার প্রধান মেট্রো শহরে পেট্রল ও ডিজেলের দামে বেশ বড়সড় রদবদল এসেছে। এবারের দফায় সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কলকাতায়। এখানে পেট্রলের দাম ৯৬ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ১০৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৬ টাকা ৭ পয়সা। এছাড়া কলকাতায় জ্বালানি তেলের পাশাপাশি সিএনজি-র দামও কেজিপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
দেশের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বেড়েছে। এর ফলে সেখানে পেট্রল ও ডিজেলের নতুন দাম হয়েছে যথাক্রমে ৯৮ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ৯১ টাকা ৫৮ পয়সা। বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম ৯১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই বৃদ্ধির পর মুম্বইবাসীকে প্রতি লিটার পেট্রলের জন্য ১০৭ টাকা ৫৯ পয়সা এবং ডিজেলের জন্য ৯৬ টাকা ৭ পয়সা গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, চেন্নাইতে বৃদ্ধির হার বাকি শহরগুলোর চেয়ে কিছুটা কম। সেখানে পেট্রলের দাম ৮২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ৪৯ পয়সায় এবং ডিজেল ৮৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৪ টাকা ৫৩ পয়সা।
পরপর দু’বার জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবজি থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরি পণ্যের বাজার অগ্নিমূল্য হওয়ার উপক্রম। ইতিমধ্যেই বাসচালকদের সংগঠনগুলো ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সরকারকে চিঠি দেওয়া শুরু করেছে। অটো এবং পণ্যবাহী লরির ভাড়াও বৃদ্ধির মুখে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়ে প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম‘ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের পরামর্শ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোট মিটতেই যে তেলের দাম বাড়বে, তা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

