মাদ্রাসা বন্ধ করার দাবি নিয়ে যখন শাসক দল বিজেপির নেতারা সরব, ঠিক তখনই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যের খোদ শিক্ষামন্ত্রীর স্ত্রী নিজেই একটি জুনিয়র হাই মাদ্রাসার শিক্ষিকা। এই খবরটি সামনে আসতেই রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিতর্কের শুরু পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর একটি মন্তব্য থেকে। তিনি দাবি করেছেন, “বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মাদ্রাসার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।”
তাঁর এই মন্তব্যের সমর্থনে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও সমর্থকদের একাংশ। একই সুরে সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি মাদ্রাসায় সরকারি অনুদান প্রদান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে এই বিতর্ককে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
তবে এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের মধ্যেই এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যা রাজ্যের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পারিবারিক অবস্থানকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে যখন মাদ্রাসা শিক্ষাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা হচ্ছে, তখন খোদ শিক্ষামন্ত্রীর স্ত্রী নিজেই একটি জুনিয়র হাই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করছেন।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা এবং ‘মাই নেতা’ (My Neta) পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর স্ত্রী ‘ বড়াইতারি উজিরিয়া জুনিয়র হাই মাদ্রাসা ফর গার্লস, ইউনিট-২’ এর শিক্ষিকা। মাদ্রাসা-বিরোধী এই লাগাতার প্রচারের মুখে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর এই পারিবারিক তথ্য শাসক দলের অন্দরে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে।
অন্যদিকে, এই মাদ্রাসা বিতর্কে কড়া ভাষায় পালটা জবাব দিয়েছেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিজেপির এই মাদ্রাসা-বিরোধী মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে তাদের দু-চারবার ভেবে দেখা উচিত।

