অসমে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার এএন-৩২ বিমান! শহিদ ৫ সেনা কর্মী

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
IAF transport aircraft crashes at Jorhat airbase in Assam
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

শনিবার সকালে আসামের জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ।  ভারতীয় বায়ুসেনার একটি এএন-৩২ (AN-32) ট্রান্সপোর্ট বিমান রুটিন প্রশিক্ষণ চলাকালীন অবতরণের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি রানওয়ে ছোঁয়ার ঠিক পরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে চলে যায়।  এই মর্মান্তিক ঘটনায় কর্তব্যরত পাঁচজন বায়ুসেনা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা দেশের সামরিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

দুর্ঘটনায় শহিদ হওয়া পাঁচজন সেনা কর্মীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।  শহিদদের মধ্যে রয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার। এছাড়া এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা এবং দুই তরুণ অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত ও দানিশ আলম।  ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের সরকারি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।  বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “জোরহাটে এএন-৩২ দুর্ঘটনায় কর্তব্যরত পাঁচজন বায়ুসেনা কর্মী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।  তাঁদের এই আত্মত্যাগের জন্য দেশ কৃতজ্ঞ।  পরিবারের পাশে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।”

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জোরহাট বিমানঘাঁটির দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে । দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পাঁচজনকে রক্ষা করা যায়নি।  এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে বিমানের সহ-পাইলটের বেঁচে ফেরার ঘটনায়।  গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত এয়ারফিল্ডের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

উল্লেখ্য যে, এএন-৩২ বিমানগুলি ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ওয়ার্কহর্স‘ হিসেবে পরিচিত।  সোভিয়েত জমানায় নির্মিত এই বিমানগুলি দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভারী মালামাল পরিবহণের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।  বর্তমানে বায়ুসেনার বহরে প্রায় ১০০টি এএন-৩২ বিমান সক্রিয় রয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জোরহাট বিমানঘাঁটিতে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।  কী যান্ত্রিক ত্রুটি বা পরিস্থিতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বায়ুসেনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।