ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের আবহে এবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইল সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। দলটির পক্ষ থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষের নাম, ইপিক নম্বর এবং স্বাক্ষর-সহ একটি স্মারকলিপি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়েরের অনুমতি চেয়েও আবেদন জানানো হয়েছে।
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দাবি, গত এক মাস ধরে তারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রচার ও গণসংযোগ কর্মসূচি চালিয়েছে। সেই সময় বিচারাধীন তালিকায় থাকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিযোগ সংগ্রহ করা হয়। পরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর, নাম এবং ইপিক নম্বর সংগ্রহ করে তা স্মারকলিপির সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যেসব আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের প্রয়োজনীয় নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে যে সংখ্যক ট্রাইবুনাল রয়েছে, তা দিয়ে বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলে দাবি করা হয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে ব্লক, মহকুমা বা জেলা স্তরে অতিরিক্ত ট্রাইবুনাল গঠন কিংবা অন্য কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত, শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কোনও ব্যক্তির সরকারি প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বা অন্য সরকারি সুবিধা বন্ধ করা যাবে না এমন নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। বর্তমানে সেই আবেদনগুলির শুনানি চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৮ থেকে ৩০ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এই মামলাগুলির শুনানির জন্য বর্তমানে সীমিত সংখ্যক ট্রাইবুনাল কাজ করছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে জানা গেলেও, এই গতিতে সব আবেদন শেষ করতে বহু বছর সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। সেই কারণেই তারা অতিরিক্ত ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি তুলেছে।
এদিকে সম্প্রতি ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমও ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো ও জনবল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

