পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। একটি পণ্যবাহী লরি আটকে ২২ হাজার টাকার বেআইনি দাবি এবং ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে দুই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টর (এমভিআই) কে বরখাস্ত করেছে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তভার দেয় অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB) কে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে এবং ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’। তাঁর দাবি, দীপক সিংয়ের মালিকানাধীন এবং শিবা যাদব চালিত গুডস ক্যারিয়ার ট্রাক (JH09BA3535) সার্ভিসিং শেষে গ্যারেজে ফেরার সময় রামপুর চেকপোস্টে অন্যায়ভাবে আটকানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত আধিকারিকরা চালককে ঘুষ দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ। চালক ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে লরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং রাজ্য সরকার আগেই বাতিল করে দেওয়া একটি করের নামে ২২ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ সামনে আসতেই পরিবহন দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টর নাজিমুল হক ও অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ ও আপিল) বিধি, ১৯৭১ এর ৭(১)(ক) ধারায় সাসপেন্ড করে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর কাছে পাঠানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অন্যায়ভাবে আটক হওয়া যানবাহন দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, প্রশাসনের যে কোনও কর্মী দুর্নীতি, ঘুষ বা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
