টানা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার ২৫ জুলাই নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথাও ঘোষণা করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পোস্টে লেখেন, দেশের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে এসেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তাঁর কাছে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের বিভ্রান্তির পথে যেতে দেওয়া উচিত নয় এবং তারা যেন আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মন দিতে পারে, সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, জন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, সেই বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা আসে। ফলে আন্দোলনকারীদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেছে সিজেপি।
পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, আন্দোলনের তিন দফা দাবির মধ্যে প্রথমটি পূরণ হয়েছে। তবে এখনও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাকি রয়েছে। সেগুলি হল— নিট প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা সব ছাত্র-ছাত্রীর পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ছাত্র-ছাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা। সংগঠনের দাবি, এই দুই বিষয়েও সরকারের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন শেষ হচ্ছে না।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর বিদায়ী বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, মন্ত্রকের আধিকারিক ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্নপূরণ এবং জাতির সেবায় ভবিষ্যতেও তিনি নিজেকে উৎসর্গ করে কাজ করে যাবেন।

