একদিকে বিহারে মামলা তুলে নেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে বাংলায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা দমন আইন’

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

নিট (NEET UG) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি-শাসিত দুই রাজ্যের প্রশাসনিক পদক্ষেপে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।  একদিকে বিহার সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, এফআইআর ও শোকজ নোটিস তুলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়াদের নিঃশর্ত মুক্তির ঘোষণা করেছে।  অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মতলায় নিট আন্দোলনকে ঘিরে অশান্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।  ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।  একই ইস্যুতে দুই রাজ্যের সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

বিহারের স্বরাষ্ট্র দফতর সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, ২৬ জুলাইয়ের আগে নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর হয়েছিল, তাঁদের সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।  এমনকি, যাঁদের গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছিল, তাঁদেরও দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও আইনি কোপের মুখে পড়তে হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বিহারের বিজেপি সরকার।

এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।  কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিট বিক্ষোভের মিছিলে ধুন্ধুমার কাণ্ড, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।  এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধৃতদের একটি বড় অংশই আদতে আন্দোলনকারী বা ছাত্র নন, বরং তাঁরা ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে বহিরাগত সমাজবিরোধীরা।  এদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে রাজ্য সদ্য প্রণীত ‘পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট’ বা ‘গুন্ডা দমন আইন‘ প্রয়োগ করেছে।  মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়েছেন, এই অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

বিহার সরকারের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গেও কি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করা হবে? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনও নতুন ঘোষণা আসেনি।  বরং ধর্মতলা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা দমন আইন‘ প্রয়োগ করে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন সিজেপি (CJP)-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও মামলা দায়ের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রের কাছে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।  তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হচ্ছে না।  রাঙ্কার এই দাবি প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিহার সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার বা আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার ঘোষণা করে।  তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।