নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার হওয়া ১৬ জন আন্দোলনকারী শেষ পর্যন্ত জামিন পেলেন। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, আন্দোলনের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আইন ভাঙলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা ‘তিন পুরুষ মনে রাখবে’। সেই মন্তব্যের পর আদালতের জামিনের নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত শুক্রবার নিট পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র উদ্যোগে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের শেষ পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।
মঙ্গলবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে জেল হেফাজতের আবেদন করা হয়। আদালতও প্রথমে ৩০ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শুনানির মাঝেই মামলার মোড় ঘুরে যায়। ধৃতদের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে ফের জামিনের আবেদন জানান। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, অভিযুক্তদের আর জেল হেফাজতে রাখার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। এরপর বিচারক আগের নির্দেশ সংশোধন করে ১৬ জনকেই ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন।
এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এসকে সালমানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও, বিক্ষোভ শেষে রাস্তার প্লাস্টিকের বোতল ও আবর্জনা নিজের হাতে পরিষ্কার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই ধর্মতলায় অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভের পর সাংবাদিক ও পুলিশকর্মীদের নিগ্রহের অভিযোগে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। তবে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁদের সকলকেই ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাঁদের কারও বিরুদ্ধেই গুণ্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হয়নি। কারণ, রাজ্যে এখনও ওই আইন কার্যকর হয়নি। ফলে এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

