কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়ো ছবি, ভিডিও ও অডিও বা ‘ডিপফেক’-এর অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন নিয়ম করেছে, যেখানে সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে কোনও বেআইনি কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার মধ্যে সেই কন্টেন্ট অপসারণ করতে হবে। আগে একই কাজের জন্য ৩৬ ঘণ্টা সময় ছিল।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এআই এর সাহায্যে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য যে কোনও কনটেন্টে বানালে সেটা উল্লেখ করে দিতে হবে যে এটি এআই এর দ্বারা তৈরি। এছাড়াও কোন এআই প্লাটফর্মে বানানো হয়েছে কনটেন্ট সেটিও উল্লেখ করা লাগবে।
এ ছাড়া কোনও ব্যক্তির পরিচয় ভুয়োভাবে ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক, অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন কনটেন্ট শনাক্ত হলে তা অতি দ্রুত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন এমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যা ডিপফেক ও অন্যান্য ক্ষতিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই শনাক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে আগে সরিয়ে দেওয়া বেআইনি কনটেন্ট পুনরায় আপলোড হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি চালাতে হবে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে পাওয়া সেফ হারবার (Safe Harbour) সুরক্ষা হারাতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা বেআইনি কনটেন্টের জন্যও প্ল্যাটফর্মকে আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, ভুয়ো কণ্ঠস্বর, জাল ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব কনটেন্ট সত্য না মিথ্যা, তা শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং ভুয়ো তথ্যের বিস্তার ঠেকাতেই সরকার এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করেছে।

